মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে নয়টি আসন, ছয়টিতে টানটান লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাকি থাকতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে নয়টি প্রতিযোগিতা। ছয়টি আসনে পুরোপুরি টস-আপ লড়াই চলছে, আর তিনটি আসন ঝুঁকে আছে এক পক্ষের দিকে—এই নয়টি লড়াইয়ের ফলই ঠিক করবে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে, নাকি রিপাবলিকানরাই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫৩-৪৭। ডেমোক্র্যাটরা বড় ‘নীল ঢেউ’ তুলতে পারলে পরের সিনেটে ৫২ বা ৫৩টি আসন পর্যন্ত পেতে পারে। আবার জরিপের চেয়ে রিপাবলিকানরা ভালো করলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে।
সর্বশেষ পাওয়ার র্যাংকিং অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই পক্ষই ৪৭টি করে আসন পাচ্ছে বলে ধরা হচ্ছে। বাকি ছয়টি আসন প্রকৃত টস-আপ, আর তিনটি আসন ‘লিনার’—টস-আপের এক ধাপ আগের অবস্থানে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে নিট চারটি আসন বাড়তি জিততে হবে।
ফক্স নিউজের পাওয়ার র্যাংকিং পরিচালনাকারী রেমি নুমা বলেন, নয়টি আসনই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে, এবং শুধু জরিপের ভিত্তিতে যেকোনোটিকেই টস-আপ বলা যায়।
ওয়াশিংটনে ক্ষমতাসীন দল ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারায়—সেই ইতিহাসের বিরুদ্ধে লড়ছে রিপাবলিকানরা। মুদির দোকানে অনুভূত ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি, জরিপে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত উচ্চ গ্যাসের দাম এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমশ নেতিবাচক অনুমোদন রেটিংও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নয়টি প্রতিযোগিতামূলক আসনের ছয়টিতেই বর্তমানে রিপাবলিকানরা আসীন, ফলে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানরাই বেশি রক্ষণাত্মক অবস্থানে খেলছে।
ছয়টি টস-আপ অঙ্গরাজ্য হলো আলাস্কা, যেখানে সিনেটর ড্যান সালিভান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক প্রতিনিধি মেরি পেলটোলার বিরুদ্ধে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন; আইওয়া, যেখানে অবসর নেওয়া সিনেটর জনি আর্নস্টের আসন ধরে রাখতে প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসন ডেমোক্র্যাট রাজ্য প্রতিনিধি জশ টুরেকের মুখোমুখি; এবং মেইন, যেখানে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক রাজ্য সিনেট প্রেসিডেন্ট ট্রয় জ্যাকসন।
তালিকায় আরও আছে ওহাইও, যেখানে নিয়োগ পাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ২০২২ সালে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের জেতা মেয়াদের বাকি দুই বছর পূরণের জন্য লড়ছেন সাবেক দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউনের বিরুদ্ধে। টেক্সাসে রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন ডেমোক্র্যাট রাজ্য প্রতিনিধি জেমস ট্যালারিকোর মুখোমুখি হচ্ছেন দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে; তিক্ত রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কর্নিনকে হারিয়েছিলেন প্যাক্সটন।
ষষ্ঠ টস-আপ মিশিগানে ডেমোক্র্যাটরা রক্ষণাত্মক অবস্থানে। অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ধরে রাখতে প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ লড়ছেন সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্র্যাটরা রক্ষণে আছেন—অবসর নেওয়া সিনেটর জিন শাহিনের আসন নীল রাখতে প্রতিনিধি ক্রিস পাপ্পাস লড়ছেন সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জন ই. সুনুনুর বিরুদ্ধে; এই লড়াইকে ‘লিন ডেমোক্র্যাট’ বলা হচ্ছে। মিনেসোটায় ডেমোক্র্যাট লেফটেন্যান্ট গভর্নর পেগি ফ্লানাগ্যান অবসর নেওয়া সিনেটর টিনা স্মিথের আসন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, তবে রিপাবলিকান প্রার্থী মিশেল টাফোয়ার উত্থানে এই লড়াই ‘লাইকলি ডেমোক্র্যাট’ থেকে সরে ‘লিন ডেমোক্র্যাটে’ এসেছে। অন্যদিকে লাল-ঝোঁকের কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টনের বিরুদ্ধে কঠিন পুনর্নির্বাচনের মুখে; এই আসন ‘লিন রিপাবলিকান’।
নুমার মতে, কানসাস, মিনেসোটা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটারদের ধরন ও রাজ্যগুলোর ইতিহাসই সেগুলোকে ‘লিন’ অবস্থানে রেখেছে, কিন্তু মানচিত্রটি প্রসারিত হয়েছে এবং মিনেসোটা ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা লাল এলাকার দিকে গেছে।
দুটি রাজ্য এখন রিপাবলিকানদের নাগালের বাইরে বলেই মনে হচ্ছে। জর্জিয়া ২০২৬ চক্রের শুরুতে শীর্ষ রিপাবলিকান লক্ষ্য ছিল, কিন্তু ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রার্থী প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের চেয়ে শক্ত লিড ধরে রেখেছেন; রিপাবলিকান বাইরের গোষ্ঠীগুলো সেখানে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং আসনটিকে ‘লাইকলি ডেমোক্র্যাট’ বলা হচ্ছে। পাশের নর্থ ক্যারোলাইনায় অবসর নেওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের আসনটিও রিপাবলিকানরা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে—প্রার্থী মাইক হোয়াটলির পক্ষে ব্যয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যিনি জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপারের পেছনে আছেন।
ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, যদি তারা জর্জিয়া, মিশিগান, মিনেসোটা ও নিউ হ্যাম্পশায়ার ধরে রাখে, নর্থ ক্যারোলাইনা উল্টে দেয় এবং রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত পাঁচটি টস-আপ রাজ্যের অন্তত তিনটিতে জেতে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটোরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটির চেয়ার কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, সিনেট ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা জেতার সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে—রিপাবলিকান আসন ওলটানোর একাধিক পথ ও মানচিত্রজুড়ে বাড়তে থাকা গতি তাদের পক্ষে।
অন্যদিকে রক্ষণে থাকা টস-আপগুলোর অন্তত তিনটি ধরে রাখলেই রিপাবলিকানরা কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রাখবে। ৫০-৫০ সিনেটও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের টাই-ভাঙা ভোটের কারণে রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, এই নয়টি আসনের প্রতিটি প্রচারণাই এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে।




