নিজের পণ্য ওয়েবসাইট হ্যাক করলে দায় কোম্পানিরই, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধানের হুঁশিয়ারি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পণ্য কোনো ওয়েবসাইট হ্যাক করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই নিতে হবে—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন। দ্রুত এগিয়ে চলা এই প্রযুক্তির জন্য ওয়াশিংটন যখন নতুন সুরক্ষা কাঠামো তৈরির দিকে যাচ্ছে, তখনই এলো এই হুঁশিয়ারি।
সদ্য ঘোষিত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ বা এসআইএফের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া ক্লেটন শনিবার ‘মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে বলেন, সরকারি ওয়েবসাইট হোক বা বেসরকারি খাতের ওয়েবসাইট—কোনো পণ্য হ্যাকিং করলে তার দায় সেই পণ্যের নির্মাতারই। তার ভাষায়, বিষয়টি তিনি পরিষ্কার করে দিতে চান।
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক ক্লেটনের সঙ্গে এসআইএফের নেতৃত্বে আরও রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, যুদ্ধ বিভাগের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমিল মাইকেল এবং পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট অফিসের পরিচালক স্কট কুপোর। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবেন।
সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের মডেল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিসার আবেদন জমা দিয়েছে এবং পুলিশের কাছে মিথ্যা হত্যার তথ্য পাঠিয়েছে—এমন খবরের প্রসঙ্গে ক্লেটন বলেন, সরকার ইতিমধ্যে হস্তক্ষেপ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিককে বলা হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে তাদের সহায়তা করতে, তাদের সিস্টেমের ত্রুটি সারাতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে হবে। কোম্পানিটি তা করবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।
ক্রমশ স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠা এসব এআই সিস্টেমের ‘নিজস্ব জীবন’ রয়েছে এবং সে কারণে কোম্পানিগুলো দায়মুক্ত—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন ক্লেটন। তিনি বলেন, এই ধারণায় ইতিমধ্যে একটি পুনর্নির্ধারণ এসেছে এবং এখন সেই পুনর্নির্ধারণ কার্যকর করাই সরকারের কাজ।
এসআইএফকে ১২০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টের কাছে এআই সুরক্ষা কাঠামোর সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য, যাতে উদ্ভাবন ব্যাহত না করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এই সময়সীমাই নতুন উদ্যোগটির মূল কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করছে।
ক্লেটন জানান, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া স্বয়ংক্রিয় এজেন্টদের ক্ষেত্রে তিনি ‘সময়ের জরুরি বিষয়গুলোতে’ মনোযোগ দেবেন। এসব বিষয়কে তিনি তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন—শনাক্তকরণ, প্রতিবেদন দেওয়া এবং প্রতিক্রিয়া।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুপার ইন্টেলিজেন্সের বিকাশ ও প্রয়োগের পথে ঘটনা ঘটবেই। প্রশ্ন হলো, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা কত দ্রুত ও কত পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারকে সেসব ঘটনা জানাবেন, যাতে সরকার ও কোম্পানি উভয়ই আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
ক্লেটন বলেন, আমেরিকানরা জানতে চান সরকার ‘পাহারায় থাকা পুলিশের’ ভূমিকায় রয়েছে এবং সীমান্তবর্তী গবেষণাগারগুলোকে যেকোনো ক্ষতি মোকাবিলায় বাধ্য করা হচ্ছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন কাঠামোর প্রয়োগমুখী চরিত্রটাই তুলে ধরেছেন।
এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। সরকারি ওয়েবসাইট লক্ষ্য করে অনিয়মের ঘটনার পর নতুন আইনের দাবি উঠলেও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে আইনের বদলে দায়িত্ব ও প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই সাক্ষাৎকারে।
আগামী ১২০ দিনে এসআইএফ কী সুপারিশ দেয় এবং বড় এআই কোম্পানিগুলো সেই কাঠামোর প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপরই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের এআই শাসনের পরবর্তী চিত্র। আপাতত ক্লেটনের বার্তা স্পষ্ট—পণ্যের ক্ষতির দায় পণ্যের নির্মাতাকেই বহন করতে হবে।




