নিজের নগ্ন ছবি দেখানোর অভিযোগে পুলিশি তদন্তে রিফর্ম ইউকের মেয়র লুক ক্যাম্পবেল, অভিযোগ অস্বীকার
নিজের ‘নগ্ন ও যৌনতামূলক’ ছবি এক নারী সহকর্মীকে দেখানোর অভিযোগে পুলিশি তদন্তের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকের মেয়র লুক ক্যাম্পবেল। হাল ও ইস্ট ইয়র্কশায়ারের মেয়র এবং সাবেক অলিম্পিক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ক্যাম্পবেলকে চলতি মাসের শুরুতে সতর্কতাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে হাম্বারসাইড পুলিশ বলে জানা গেছে।
রোববার প্রথম খবরটি প্রকাশের পর জানা যায়, গত মে মাসে ক্যাম্পবেল এক জ্যেষ্ঠ নারী সহকর্মীকে নিজের চারটি সম্পূর্ণ নগ্ন ও যৌনতামূলক ছবি দেখিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী বলেছেন, তিনি ‘মর্মাহত, বিব্রত ও অপমানিত’ বোধ করেছিলেন এবং ঘটনার পরপরই তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
এই দাবিগুলো হাল ও ইস্ট ইয়র্কশায়ার সম্মিলিত কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া নথিতে উঠে এসেছে। ক্যাম্পবেল গত মে মাসে মেয়র নির্বাচিত হন। মন্তব্যের অনুরোধে তিনি সাড়া দেননি এবং অভিযোগের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
রিফর্ম ইউকের এক মুখপাত্র বলেছেন, লুক ক্যাম্পবেল অভিযোগগুলো ‘দৃঢ়ভাবে অস্বীকার’ করেছেন। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো এসেছে একজন অসন্তুষ্ট কর্মীর কাছ থেকে, যিনি ভিত্তিহীন কর্মক্ষেত্র-বিরোধে আপস আদায়ের চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী ও বর্তমানে রিফর্ম ইউকের সদস্য নাদিন ডরিস রোববার ক্যাম্পবেলের পক্ষে বক্তব্য দেন। তার দাবি, ‘যৌনতামূলক’ হিসেবে বর্ণিত ছবিটি আসলে ২০১৩ সালের একটি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, যেখানে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের পর সাবেক বক্সার কোমর থেকে ওপর পর্যন্ত নগ্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলেছিলেন।
তবে এই ব্যাখ্যা সম্মিলিত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রক্রিয়ায় জমা পড়া সাক্ষ্য বিবরণের সঙ্গে মেলে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক নথিতে এক জ্যেষ্ঠ নারী সহকর্মী বলেছেন, ক্যাম্পবেল তাকে কম্পিউটারের পর্দার কাছে ডেকে নিয়েছিলেন, সেখানে মেয়রের ‘কয়েকটি নগ্ন ও যৌনতামূলক ছবি’ দেখানো হয়।
আরেকজন সাক্ষী বলেছেন, একটি ছবিতে তিনি ট্যাটুসহ এক নগ্ন পুরুষকে দেখেছেন, অথচ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে কোনো ট্যাটু দেখা যায় না। প্রধান অভিযোগকারী তার সাক্ষ্য বিবরণে বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে সম্মতি ছাড়াই তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়রের নগ্ন ও যৌনতামূলক ছবি দেখানো হয় এবং তিনি স্পষ্টভাবে বিব্রত হলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হয়।
অভিযোগকারীর ভাষায়, এটি ছিল যৌন প্রকৃতির অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ, যা তার মর্যাদা লঙ্ঘন করেছে এবং অপমানজনক, অবমাননাকর ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি করেছে। এই বক্তব্যই অভিযোগ প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ওই নারী কর্মকর্তাকে টিমস কলে জানানো হয়, স্থায়ী পদের যে প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছিলেন তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি তখন ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন, তবে স্থায়ী ভূমিকার প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন।
আরেকটি নথিতে দ্বিতীয় এক সহকর্মী বলেছেন, ক্যাম্পবেল ও দুই পুরুষ সহকর্মী এক নারী কর্মকর্তাকে ল্যাপটপের কাছে ডেকে নেওয়ার পর তিনি ‘অস্বস্তি’ বোধ করেছিলেন; ল্যাপটপে ট্যাটুসহ এক নগ্ন পুরুষের ছবি ছিল। ওই কর্মচারী ক্যাম্পবেলের ট্যাটু নিয়ে মন্তব্য শোনার এবং মেয়র শার্ট তুলে ট্যাটু দেখানোর কথাও স্মরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
সম্মিলিত কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, পুলিশি তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, সব সরকারি কর্তৃপক্ষের মতো সম্মিলিত কর্তৃপক্ষেরও সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোকাবিলায় মানদণ্ড প্রক্রিয়া এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের জন্য অভিযোগ পদ্ধতি রয়েছে, এবং দুটোই ন্যায্য ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে। হাম্বারসাইড পুলিশের মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এমন সময়ে সামনে এলো, যখন এক বছর ধরে চলা একটি টেলিভিশন তদন্তে রিফর্ম ইউকের কয়েকজন কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য এক সংসদ সদস্যের বর্ণবাদী মন্তব্য উঠে এসেছে। নাইজেল ফারাজের দল বলেছে, যেসব কর্মী বা সদস্য স্পষ্টভাবে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন তাদের ক্ষেত্রে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং দলে বর্ণবাদের কোনো জায়গা নেই। পুলিশি তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই এখন ক্যাম্পবেলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।



