প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল, সচিব হলেন আয়েশা আক্তার
জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। সচিব পদমর্যাদার সাতজন কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তন করা হয়েছে, একজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে এবং দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদলের আদেশ জারি করা হয়। একসঙ্গে এতগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ পদে পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই দেখা গেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজ আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এই রদবদলে তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা, যিনি পূর্ণ সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
একই সঙ্গে দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে নিজ মন্ত্রণালয়েরই ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। আর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবির পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব।
বর্তমান সচিবদের কর্মস্থল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) রেক্টর হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগেও এসেছে পরিবর্তন। বিভাগটির সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামান, যাঁকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা মো. জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে এক প্রজ্ঞাপন ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, নৌপরিবহণ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, যুব ও ক্রীড়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়—সব কটিতেই নতুন নেতৃত্ব এল।
সচিব হলেন প্রশাসনের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার তদারকি এবং মন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব থাকে তাঁদের হাতে। তাই শীর্ষ পদে এই ধরনের সমন্বিত রদবদলকে প্রশাসনিক গতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
এই রদবদলের ফলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে চলমান কাজের হাল ধরবেন। ভারপ্রাপ্ত সচিবদের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে রদবদলের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনে নিয়মিত বদলি ও পদায়নের অংশ হিসেবেই এই আদেশ জারি হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।





