মাদুয়েকের শেষ মুহূর্তের গোলে আর্সেনালের কষ্টের জয়, ইউনাইটেডের জয়খরা চলছেই
নটিংহামের সিটি গ্রাউন্ডে ৮০ মিনিট পর্যন্ত আর্সেনালকে আটকে রেখেছিল স্বাগতিক ফরেস্ট। জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের দেখা মিলছিল না কিছুতেই। অবশেষে ডেডলক ভাঙলেন বদলি নোনি মাদুয়েকে—ডেকলান রাইসের মাপা পাসে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বুকায়ো সাকাহীন গানাররা।
গোলটি ছিল ম্যাচে আর্সেনালের লক্ষ্যে নেওয়া প্রথম শট। পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেও মাত্র ৯টি শট নিতে পারে সফরকারীরা। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে ফরেস্ট একদম ছেড়ে কথা বলেনি—১৩টি শট নেওয়ার পাশাপাশি তারা আদায় করে ৭টি কর্নার। ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণভাগে বল দখলেও আর্সেনালকে পেছনে ফেলেছিল নটিংহাম, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
প্রথমার্ধ ছিল নিস্প্রভ। সাকার ক্রসে ফরেস্ট গোলরক্ষক মাৎস সেলসকে ক্রসবারের নিচ থেকে বল ঠেকাতে হয়। ড্যান এনদোয়ে ফার পোস্টে ঢুকে গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে পরীক্ষা করেন। কাই হাভার্ৎজ মার্টিন ওদেগার্ডের পাসে সুযোগ পেয়ে তীব্র কোণ থেকে বল পাঠান সাইড নেটিংয়ে। টাচলাইনে ক্রমেই হতাশ দেখা যাচ্ছিল কোচ মিকেল আর্তেতাকে।
বিরতিতে এজেকে তুলে মাদুয়েকেকে নামান আর্তেতা। তাতেও তাৎক্ষণিক উন্নতি আসেনি; লিয়াম ডেলাপের ছুটে যাওয়া আক্রমণে নেওয়া শট পোস্টের সামান্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর মিকেল মেরিনো, ভিক্তর গিয়োকেরেস ও ইউরিয়েন টিম্বারকে নামিয়ে আক্রমণে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করেন আর্তেতা, আর শেষ পর্যন্ত মাদুয়েকের পা থেকেই আসে জয়সূচক গোল।
এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের। সাত ম্যাচের সাতটিতেই জেতা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তারা ৩ পয়েন্ট পেছনে, তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলে অপ্রত্যাশিত হারের পর টানা তিন ম্যাচ জিতল গানাররা—লিগে লিডস ও চ্যাম্পিয়নস লিগে লিলের বিপক্ষে জয়ের পর এলো ফরেস্টের মাঠের এই জয়। সব মিলিয়ে লিগে সাত ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ জয়।
সামনে ব্যস্ত সূচি আর্সেনালের। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে খেলতে যাবে তারা, এরপর আগামী সপ্তাহান্তে লিগে ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ এভারটন। সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে রাখতে এই ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট হারানোর সুযোগ কম আর্তেতার দলের।
অন্যদিকে তালিকায় তলানি থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা ফরেস্টের দুর্দশা কাটছে না। ঘরের মাঠে শেষ ১৭টি লিগ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র দুটি। মৌসুম শুরুর আগে দায়িত্ব নেওয়া কোচ অলিভার গ্লাসনার শীর্ষ লিগে সাত ম্যাচে জিতেছেন মাত্র একটি।
একই রাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে জয় যেন আরও দূরের সোনার হরিণ হয়ে উঠল। প্রতিপক্ষের মাঠে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। ব্রায়ান এমবেউমোর গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল সফরকারীরা; দ্বিতীয়ার্ধে ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের গোলে সমতায় ফেরে লিডস।
এই ড্রয়ে ইউনাইটেডের জয়খরা আরও দীর্ঘ হলো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন ইংল্যান্ডের রেকর্ড ২০ বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচে জয় নেই তাদের; এর মধ্যে সর্বশেষ তিন ম্যাচেরই ফল একই—১-১ গোলে ড্র। এগিয়ে গিয়েও ব্যবধান ধরে রাখতে না পারার পুরোনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল আরেকবার।
একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সে এমনিতেও সমালোচনার মুখে আছেন ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক। লিডসের মাঠে আরও একবার পয়েন্ট হারানোয় সেই সমালোচনার তির যে আরও ধারালো হবে, তা বলাই বাহুল্য।
লিডসের বিপক্ষে ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক রেকর্ডও স্বস্তি দিচ্ছে না। গত মৌসুমে লিগে দুইবারের দেখায় একবারও জিততে পারেনি তারা—প্রথম ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ফিরতি ম্যাচে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল লিডস। এবারও সেই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না ক্যারিকের দল।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৭ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড; ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার ১৩ নম্বরে। অন্যদিকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে লিডস। জয়খরা কাটিয়ে তালিকার ওপরের দিকে ওঠাই এখন ক্যারিকের দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




