যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জয়জয়কার, জিতলেন চার স্বর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলে (এসআইইউসি) অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দারুণ সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ‘ফল-২০২৬’ নামের এই আসরে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও টেবিল টেনিসে পদক জিতে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট রিক্রিয়েশন সেন্টারে ৯ থেকে ১১ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। নানা দেশের শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলায় বাংলাদেশি দলের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
ক্রিকেটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দল ফাইনালে শ্রীলঙ্কান শিক্ষার্থীদের দলকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতে। ক্রিকেটের এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং বাকি ইভেন্টগুলোতেও তার প্রভাব পড়ে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাডমিন্টনে আরও বড় সাফল্য এসেছে। এই ইভেন্টের স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ—তিনটি পদকই জিতেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ ব্যাডমিন্টনের পুরো পডিয়ামই ছিল বাংলাদেশিদের দখলে, যা আসরে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর জন্য ছিল বিস্ময়ের।
এ ছাড়া দাবা ও টেবিল টেনিসেও স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বুদ্ধির খেলা দাবা আর ক্ষিপ্রতার খেলা টেবিল টেনিস—দুই ভিন্ন ধরনের ইভেন্টেই শীর্ষে থাকা দলটির সার্বিক প্রস্তুতিরই পরিচয় দেয়।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন। পদক তালিকায় এটাই কোনো একক দলের সর্বোচ্চ অর্জন। ফলে এবারের আসরে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁরা।
বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায় এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার পরিচয় নতুন করে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী তামিনুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই পিএইচডি অথবা মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সবারই পড়াশোনা ও গবেষণার চাপ থাকে। এরপরও আমরা খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে পেরেছি। বিদেশের মাটিতে এই অর্জন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে।’
তিনি আরও বলেন, তাঁদের চেষ্টা থাকবে আগামী দিনেও যেন এই সাফল্যের ধারা বজায় থাকে। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও নিয়মিত অনুশীলন ধরে রাখাই এই ধারাবাহিকতার চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহাল আহমেদ মজুমদার জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক গর্বের অধ্যায়। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সার্বক্ষণিক সব ধরনের উৎসাহ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসে পড়াশোনা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এমন অর্জন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী আসরগুলোতে এই সাফল্যের ধারা কতটা ধরে রাখতে পারেন এসআইইউসির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।



