বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ:
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রাজনীতি

পদত্যাগের গুঞ্জনে নিজেই মুখ খুললেন ইশরাক: নির্দেশ কার্যকর হলেই সংবাদ সম্মেলনে জানাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক • • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পেয়েছেন — এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর এবার নিজেই মুখ খুললেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। যাচাইকৃত ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই তিনি দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানাবেন।

রোববার একাধিক সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে খবর ছড়ায়, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরেক বর্ণনায় বলা হয়, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে পাঠান, সেখানেই নাকি তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়; সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলেও দাবি করা হয়। তবে সরকারের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর পরপরই প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ পাঠানো হয় এবং তার প্রেস কর্মকর্তা পদত্যাগের বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। প্রতিবাদে বলা হয়, ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ মর্মে যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, প্রকৃত সত্য হলো — প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন; সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এরপর ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন নিজে ফেসবুক পোস্ট করেন। ভেরিফায়েড সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যে কোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যে কোনো নির্দেশ আসার সাথে সাথে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়।’

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘অতএব এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য তৃতীয়, চতুর্থ, অথবা আরও দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যাচাই করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা আমার ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।’ অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত সত্যিই কার্যকর হলে সেটি তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন — সূত্রের বরাতের খবরকে সেভাবেই দেখতে বললেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিবাদপত্রে সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব মাধ্যম বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছে, তাদের অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে; অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এই গুঞ্জনের সূত্রপাত শনিবারের একটি ঘটনা থেকে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক হোসেন। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়, তার সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে পিস্তল উঁচিয়ে চিৎকার করতে এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের একজনকে মারধর করতেও দেখা গেছে বলে বর্ণনায় এসেছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আলোচনা ও সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে ‘ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত’ বলে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

প্রতিবাদপত্রে অবশ্য সেই ঘটনা নিয়েও অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আগেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদত্যাগসংক্রান্ত যেকোনো খবর ছড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলেও প্রতিবাদে দাবি করা হয়।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন দুই পক্ষের দুই বর্ণনার মধ্যে আটকে আছে — একদিকে একাধিক সূত্রের বরাতে পদত্যাগের নির্দেশের খবর, অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবাদ ও নিজের ফেসবুক বার্তা। সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত গুঞ্জনের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ইশরাক হোসেনের নিজের ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সেটির প্রথম আনুষ্ঠানিক জানান আসবে তার সংবাদ সম্মেলন থেকেই। ফলে এখন সবার নজর সেদিকেই — সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয় কি না, আর সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই জল্পনার অবসান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি • ৩ মিনিটে পড়ুন

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল: ছয় সচিব বদলি, একজনকে পদোন্নতি, দুজন ভারপ্রাপ্ত সচিব

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল করেছে সরকার। ছয় সচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নত…

রাজনীতি • ৭ মিনিটে পড়ুন

পদত্যাগের খবর ‘ভুয়া’ বলার পর এবার হাসনাতের খোঁচা, ইশরাক বললেন বাঁশের লাঠিতে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করবেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দিনভর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাম…

রাজনীতি • ৪ মিনিটে পড়ুন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড…

রাজনীতি • ২ মিনিটে পড়ুন

পদত্যাগের খবরকে ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাঁর পদত্যাগের খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে…