সালমানের সেঞ্চুরি আর আফ্রিদির তোপে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের জয়যাত্রা
রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে পাকিস্তান। সালমান আগার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান অলআউট হওয়ার আগে তোলে ৩০৫ রান। জবাবে একপর্যায়ে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও শেষদিকে ধস নেমে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয় ২৬৮ রানে।
পাকিস্তানের ইনিংসের প্রাণ ছিলেন সালমান আগা। তিনি ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ১০৭ রান। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। মিডল অর্ডারে তাঁর এই ইনিংসই পাকিস্তানকে তিন শ ছাড়ানো সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়, যদিও ইনিংসের শেষটা স্বাগতিকদের জন্যও ছিল হতাশার।
সালমান ছাড়া পাকিস্তানের আর কেউ ফিফটিও পাননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম। এ ছাড়া সাদ বেগ করেন ৩৯ রান এবং হাসান নেওয়াজ করেন ৩৭ রান। শ্রীলঙ্কার পেসার ঈশান মালিঙ্গা ৪৬ রানে নেন ৪ উইকেট।
পাকিস্তানের ইনিংসের শেষভাগের চিত্র ছিল শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষের মতোই। ২৭৯ রান থেকে ৩০৫ রানে পৌঁছাতে শেষ ৫ উইকেট খোয়ায় দলটি — মাত্র ২৬ রানে পাঁচজন ব্যাটসম্যান ফিরে যান। ফলে আরও বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকলেও পাকিস্তানকে থামতে হয় ৩০৫ রানেই।
রান তাড়ায় নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালো হয়নি। ৯১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দলটি তখন চাপে। তবে সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন পবন রত্নায়েকে ও জানিত লিয়ানাগে। পঞ্চম উইকেটে তাঁরা গড়েন ১১৯ রানের জুটি, আর তাতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা।
রত্নায়েকে ৭৪ বলে করেন ৭৯ রান। তবে জুটি ভাঙে তাঁর সহজ একটি ক্যাচ তুলে বিদায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে। সমান ৭৪ বলে ৬০ রান করা লিয়ানাগেও ফেরেন দলের ২৫৩ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে। এই আউটেই শুরু হয় শ্রীলঙ্কার ধস, যা আর থামানো যায়নি।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় হিসাবটি শেষের দিকে। একপর্যায়ে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৩৯ বলে ৫৩ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট — সম্ভাবনার পাল্লাটা তখন শ্রীলঙ্কার দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে দলটি যোগ করতে পারে আর মাত্র ১৫ রান। ফলে জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে যেতে হয় তাদের।
বল হাতে পাকিস্তানের সেরা ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি ৫৫ রানে নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন অন্য তিন পেসার নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ। পেস আক্রমণের এই সম্মিলিত তোপেই শেষদিকে মুখ থুবড়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল ওঠানামায় ভরা। পাকিস্তান প্রথমে বড় সংগ্রহ গড়েও শেষে উইকেট হারিয়েছে গুচ্ছে গুচ্ছে, আবার শ্রীলঙ্কা তাড়া করতে নেমে জয়ের কাছে পৌঁছেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। দুই দলের জন্যই তাই এই ম্যাচ রেখে গেছে শিক্ষা — ইনিংসের শেষভাগ সামলানোই সিরিজের পরের ম্যাচগুলোতে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের পরের ম্যাচে মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচের এই জয় আত্মবিশ্বাস জোগালেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষদিকের ব্যাটিং ধস নিয়ে ভাবতে হবে স্বাগতিকদের। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কাকে ফিরতে হবে জয়ের এত কাছে এসে হারের হতাশা কাটিয়ে।






