রোববার বন্ধই থাকবে চিক-ফিল-এ, বদলাবে না ৮০ বছরের নিয়ম: সিইও
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন চিক-ফিল-এ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি রোববার বন্ধ থাকে। সেই নীতি বদলানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ড্রু ক্যাথি।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চেইনটি রোববারে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখে। এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে সহ-উপস্থাপক ক্রেগ মেলভিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথি বলেন, সেই সময়ে অনেক জায়গাই রোববার বন্ধ থাকত, প্রতিষ্ঠানটিও দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ছয় দিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ক্যাথি বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা চেয়েছিলেন কর্মীরা যেন বিরতি পান—কেউ গির্জায় যেতে পারেন, অন্যরা শুধু বিশ্রাম নিতে পারেন। কর্মীরাও এই নীতি পছন্দ করেন, কারণ তাঁরা জানেন সপ্তাহে একদিন ছুটি তাঁদের নিশ্চিত।
সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নটি হলো—রোববার বন্ধ রেখে কত আয় হারাচ্ছে চিক-ফিল-এ? গত পাঁচ বছর ধরে সিইও থাকা ক্যাথির উত্তর চমকে দেওয়ার মতো: তিনি কখনোই সেই হিসাব করেননি। তাঁর ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, আমি কখনো হিসাব করিনি, কারণ এটা এমন কিছুই নয় যা আমরা বিবেচনা করছি। এটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ক্যাথি মনে করেন, বেসরকারি পারিবারিক ব্যবসা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি সর্বোচ্চ করার বদলে নিজেদের মূল্যবোধ ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এটাই তাঁদের সুবিধা।
পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে, ছয় দিন খোলা থেকেও ব্যবসায় পিছিয়ে নেই চিক-ফিল-এ। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আউটলেটের গড় বার্ষিক বিক্রি ছিল ৯১ লাখ ৬১ হাজার ২৩৯ ডলার, যা ওয়েন্ডিস ও বার্গার কিংসহ একাধিক বড় ফাস্টফুড চেইনকে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ফ্র্যাঞ্চাইজি পেতেও তীব্র প্রতিযোগিতা। ক্যাথি ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে জানান, প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ ফ্র্যাঞ্চাইজি আবেদন জমা পড়ে। কিউএসআর ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিক-ফিল-এ ১৭৯টি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কোম্পানি-পরিচালিত আউটলেট খুলেছে; মোট আউটলেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৬৩টিতে।
প্রতিষ্ঠানটির ক্লাসিক চিকেন স্যান্ডউইচের রেসিপি একই আছে ১৯৬৭ সাল থেকে, যেটি তৈরি করেছিলেন প্রতিষ্ঠাতা এস. ট্রুয়েট ক্যাথি। ক্যাথি পরিবারের খ্রিস্টান বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রেখে আসছে।
সিইও বলেন, তাঁদের করপোরেট উদ্দেশ্যই হলো ঈশ্বরের মহিমা ঘোষণা—যা কিছু তাঁদের হাতে অর্পিত, তার বিশ্বস্ত তত্ত্বাবধায়ক হয়ে এবং যাঁরা চিক-ফিল-এর সংস্পর্শে আসেন, তাঁদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রোববার বন্ধ রাখার নীতিকে তিনি সেই ভিত্তিরই অংশ বলে অভিহিত করেন।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে প্রতিষ্ঠানটি অপরিবর্তনীয়, তা নয়। মেন্যুতে পরিবর্তন আসছে—চেইনটি সম্প্রতি দশ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন সস আনার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে অতিথিরা ‘স্পাইসি চিক-ফিল-এ সস’ অর্ডার করতে পারবেন—তবে রোববারে নয়।
এদিকে নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে একটি প্রস্তাবিত বিল নিয়েও আলোচনা চলছে, যা পাস হলে কিছু চিক-ফিল-এ আউটলেটকে রোববার খোলা রাখতে বাধ্য করা হতে পারে। তবে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক নীতি আপাতত একটাই—রোববার মানেই বন্ধ।





