দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের শাকিল হোসেনের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২৩) এবং তাঁর দুই সন্তান—চার বছর বয়সী ছেলে সাফায়েত হোসেন ও দুই বছর বয়সী মেয়ে রাইসা আক্তার। একই ঘরে মা ও দুই শিশুর মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের বরাদ দিয়ে পুলিশ জানায়, শাকিল হোসেন পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আর এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। পারিবারিক এই কলহই ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একই ধরনের ঝগড়া হয়। এরপর শাকিল হোসেনসহ বাড়ির অন্য সদস্যরা বাজারে চলে গেলে বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়, আর সেই সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, বাড়ির লোকজন বাইরে থাকার সুযোগে স্বর্ণা আক্তার প্রথমে তাঁর দুই ছেলে-মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয়দের ধারণা, স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েই স্বর্ণা এই পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, তিনি প্রথমে দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন, পরে ঘরের বর্গার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। তবে এসব ধারণা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন কাজী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বলেন, সন্ধ্যার দিকে সবাই বাজারে গেলে স্বর্ণা তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে সাফায়েত ও দুই বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন, পরে নিজেও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন-নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তিনি এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন; প্রকৃত কারণ জানার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনটি মৃত্যুর পেছনের পুরো সত্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে। আপাতত পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে।



