…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › প্রবাস › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
প্রবাস

নয় মাসে আউটপাসে ফিরলেন ১,৬৮৭ নারী শ্রমিক, সবচেয়ে বেশি সৌদি আরব থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিদেশ থেকে আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন ১ হাজার ৬৮৭ জন নারী শ্রমিক। যাঁরা কাজের দেশে আর থাকতে না পেরে বা থাকার মতো পরিস্থিতি না পেয়ে এই বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি এসেছে সৌদি আরব থেকে। সে দেশ থেকে ফিরেছেন ৯৭৯ জন নারী, অর্থাৎ মোট ফেরত আসা নারী শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি শুধু একটি দেশ থেকেই ফিরেছেন।

মাসভিত্তিক হিসাবেও ফেরত আসার এই ধারার ওঠানামা স্পষ্ট। জানুয়ারিতে ফিরেছেন ১২৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯৭ জন এবং মার্চে এই সংখ্যা নেমে আসে ৩০ জনে। এরপর এপ্রিলে তা আবার বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৬ জনে, মে মাসে ১৬৭ জন, জুনে ১৬৯ জন ফিরেছেন। বছরের মাঝামাঝি থেকে সংখ্যাটি আরও বেড়ে যায়—জুলাইয়ে ৩৩১ জন এবং আগস্টে ৩০৯ জন নারী শ্রমিক আউটপাস নিয়ে ফেরত আসেন। সেপ্টেম্বরে ফিরেছেন ২২০ জন।

সৌদি আরবের পর ফেরত আসার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জর্ডান, সেখান থেকে ফিরেছেন ২২৭ জন নারী শ্রমিক। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৮ জন, ভারত থেকে ৫২ জন এবং মালয়েশিয়া থেকে ৪৮ জন ফিরে এসেছেন। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই ফেরত আসা নারীদের বড় অংশটি এসেছে, যা এসব দেশে গৃহকর্মসহ বিভিন্ন কাজে যাওয়া নারীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলোকে আবার সামনে এনেছে।

ফিরে আসা নারীদের কেউ কেউ তাঁদের ভোগান্তির কথা নিজেরাই বর্ণনা করেছেন। সাভারের শিলা বেগম তাঁদেরই একজন; বিদেশে কাজ করতে গিয়ে তিনি যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ফিরে এসে সে অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন। একইভাবে দোহারের জাহানারা বেগমও কাজের দেশে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁদের এসব বর্ণনায় উঠে এসেছে, কর্মস্থলে সহায়তা পাওয়া এবং নিরাপদে থাকা অনেক নারী শ্রমিকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, অথচ সে বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজন হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সিতি আক্তার। এই ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট চিঠি দিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) পদ্মায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ারের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব নজরুল ইসলামের বৈঠক হয়েছে। নারী শ্রমিকদের ফেরত আসা, তাঁদের নিরাপত্তা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এসব সমস্যার টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটির হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন। অর্থাৎ বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব, আর সে কারণেই সেখানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাবও সবচেয়ে বড় আকারে পড়ে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর।

চলতি বছরেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৮ জন কর্মী, যাঁদের মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৩ জন। এত বিপুলসংখ্যক কর্মী একটিমাত্র দেশে যাওয়ার কারণে সেখানে কর্মীদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা এবং জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, সেই প্রশ্নটি বারবার ফিরে আসে।

নারী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে ওকাপের ২০২৫ সালের এক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সেই গবেষণা অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিকদের ৯৪ শতাংশ শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৪৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর ৮২ শতাংশ নারীকে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। সৌদি আরবে বিপদে পড়া নারী শ্রমিকদের জন্য রয়েছে সেফ হোম, যেখানে তাঁরা নিরাপদে থাকতে পারেন। আউটপাস নিয়ে ফেরার আগে এমন আশ্রয় ও সহায়তা অনেকের জন্যই শেষ ভরসা হয়ে ওঠে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর এ বিষয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। নারী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন, কর্মস্থলে সুরক্ষা এবং সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলো তাঁর আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাঁদের সুরক্ষার কাঠামো শক্তিশালী না হলে ফেরত আসা ও নির্যাতনের ঘটনা কমানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশ থেকে নারী কর্মী বিদেশে পাঠানো শুরু হয় ১৯৯১ সালে। এরপর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হয়, যার পর সে দেশে নারী কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সৌদি আরবই নারী শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য, আবার ফেরত আসার তালিকাতেও দেশটির নামই সবার ওপরে।

এখন দেখার বিষয়, পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠকসহ কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর পর নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসে। ১৩ দেশে আইনি সহায়তা এবং সৌদি আরবে সেফ হোমের মতো ব্যবস্থা থাকলেও নয় মাসে ১ হাজার ৬৮৭ জন নারীর আউটপাস নিয়ে ফেরার হিসাব বলছে, মাঠপর্যায়ে সুরক্ষা আরও জোরদার করা ছাড়া এই ধারা থামানো যাবে না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

প্রবাস বিভাগের আরও খবর