বোমা হুমকিতে ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ সোফিয়ায়
তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট বোমা হুমকির পর রোববার রাতে গতিপথ বদলে জরুরি অবতরণ করেছে। ফ্লাইট ওএস৮২ নামে পরিচিত উড়োজাহাজটি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু হুমকির খবর পাওয়ার পর সেটিকে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে আকাশপথে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও তৎপরতা দেখা গেছে।
উড়োজাহাজটি ছিল একটি এয়ারবাস এ৩২০। এতে যাত্রী ছিলেন ৫১ জন এবং ক্রু সদস্য ছিলেন ৬ জন। অর্থাৎ মোট ৫৭ জন মানুষকে নিয়ে আকাশে থাকা অবস্থাতেই ফ্লাইটটির জন্য জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। বোমা হুমকির মতো অভিযোগকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে উড়োজাহাজটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত বিমানবন্দরে নামানোর পথ বেছে নেওয়া হয়।
গতিপথ বদলের পর ফ্লাইটটি সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের আগের সময়টুকু ছিল সবচেয়ে উদ্বেগের, কারণ হুমকিটি সত্য কি না, তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হয় এবং যাত্রী ও ক্রুদের কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আকাশে থাকা অবস্থায় ফ্লাইটটির নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছিল বুলগেরিয়ার সামরিক বাহিনীও। বুলগেরিয়ার একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। যাত্রীবাহী বিমানকে যুদ্ধবিমানের পাহারায় গন্তব্যের বাইরে অন্য বিমানবন্দরে নেওয়ার এই দৃশ্য থেকেই বোঝা যায়, হুমকিটিকে কর্তৃপক্ষ কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল।
অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো উড়োজাহাজটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। এই তল্লাশি ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ঘটনায় কেউ আহত হননি বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। হুমকিটি কোথা থেকে এল, কীভাবে তা জানানো হলো এবং এর পেছনে কেউ জড়িত আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। বোমা হুমকি ভুয়া প্রমাণিত হলেও এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে, কারণ একটি মাত্র হুমকিতেই পুরো ফ্লাইটের যাত্রা বদলে যায় এবং বিমানবন্দরজুড়ে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়।
রোববার রাতের এই ঘটনা ইউরোপের আকাশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঘটে যাওয়া আরও কয়েকটি নিরাপত্তা-আতঙ্কের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্লাইটের গতিপথ বদল, জরুরি অবতরণ কিংবা যুদ্ধবিমান পাঠানোর মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত মাসে এমনই আরেকটি ঘটনায় ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট গতিপথ বদলাতে বাধ্য হয়। সে সময় ককপিটে হামলার ঘটনার পর উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝ আকাশে ককপিটকেন্দ্রিক হামলার মতো ঘটনা বেসামরিক বিমান চলাচলে সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়, আর সেই ঘটনাটিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এর মাত্র গত সপ্তাহেই আরেকটি ঘটনায় ভুলবশত ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা জারি হয়ে যায়। করফু থেকে নুরেমবার্গগামী একটি ফ্লাইটে দুর্ঘটনাক্রমে সেই সতর্কবার্তা পাঠানো হলে ক্রোয়েশিয়া ও জার্মানির যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়ে। পরে জানা যায়, সতর্কবার্তাটি ছিল ভুলবশত পাঠানো। তবু সতর্কবার্তা পাওয়ার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, আকাশপথে কোনো ঝুঁকির খবরকেই এখন আর উপেক্ষা করা হয় না।
একের পর এক এসব ঘটনা ইউরোপ ও আশপাশের আকাশপথে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে আলো ফেলেছে। হুমকি সত্য হোক বা ভুলবশত পাঠানো সতর্কবার্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম সিদ্ধান্ত হয় যাত্রীদের নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনা। সোফিয়ায় রোববার রাতের ঘটনাতেও সেই একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, আর তার ফলেই ৫১ যাত্রী ও ৬ ক্রু সবাই অক্ষত রয়েছেন।
তদন্ত শেষ হলে হুমকিটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই ঘটনা বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য আরেকটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকল। মিগ-২৯-এর পাহারায় সোফিয়ায় নামা ফ্লাইট ওএস৮২-এর যাত্রীদের জন্য রোববার রাতটি ছিল দীর্ঘ উদ্বেগের, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছেন—এটাই এই ঘটনার সবচেয়ে স্বস্তির দিক।





