ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি এনসিপির
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকারের কাছে তারা দ্রুত জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে মন্দিরের জমি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় এই মন্দিরে পূজার সময়ে গিয়ে দলটির নেতারা মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন, যেখানে জমি দখলের বিষয়টিই প্রধান হয়ে ওঠে।
এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ—হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমান, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে তারা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চান।
আখতার হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সনাতন ধর্মাবলম্বী রিয়াদসহ অন্য শহীদদের তারা স্মরণ করছেন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার এই সময়ে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক, তা তারা চান না—যদিও অতীতে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত যখন দেশে কোনো সরকার কার্যকর ছিল না, তখন সাধারণ মানুষ নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অন্যের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মন্দিরগুলোতে পাহারা দিয়েছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আজকের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এই মন্দিরের বিশাল জায়গা দখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হলেও অনেকে ক্ষমতায় এলে জায়গা উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
তিনি জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখানে বুয়েটের যে অংশ রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তারা সেই অংশ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে মন্দিরের বাকি জায়গা তাদের প্রয়োজন, কারণ সেখানে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি জায়গাটি দ্রুত উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে আপনাদের দোয়ায় ক্ষমতায় আসতে পারলে আমরাও জায়গাটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আট দফা দাবির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আলোচনায় অর্পিত সম্পত্তি আইন এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জমি দখলের বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষায়, আমরা দখলদারদের কোনো দলীয় পরিচয় দিতে চাই না; তাদের পরিচয়—তারা অন্যায়কারী। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
পাটওয়ারী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো হিন্দু ভাই বা বোনের জমি কেউ দখল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন। সংসদের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়ে কথা বলবেন এবং সনাতন সম্প্রদায়ের আন্দোলনের অংশীদার হবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমরা উৎসবের অধিকারকে স্বীকার করি। দুর্গোৎসবের মতো এত বড় একটি উৎসব যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে মুক্ত থাকুক, সেই শুভকামনা জানাই। একই সঙ্গে আমরা সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি বলেও তিনি সবাইকে পুনরায় শুভ অষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ প্রমুখ।





