মধ্যবর্তী নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যগুলোতে ‘ট্রাইফেক্টা’ দখলের লড়াইয়ে দুই দলই
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক অঙ্গরাজ্যে সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যই ভোটের লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান — দুই দলই চাইছে ‘ট্রাইফেক্টা’ অর্জন করতে, অর্থাৎ গভর্নরের দপ্তর এবং অঙ্গরাজ্য আইনসভার দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে নিজেদের হাতে নিতে, যাতে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আশাবাদী সুর শোনা গেছে। ডেমোক্র্যাটিক লেজিসলেটিভ ক্যাম্পেইন কমিটির কর্মকর্তা উইল রুশে এবিসি নিউজকে বলেন, ‘এ বছর ডেমোক্র্যাটদের জন্য পরিবেশটা দারুণ, আর অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে সুযোগটা বিশাল।’
ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম বড় সুযোগ পেনসিলভানিয়ায়। সেখানে অঙ্গরাজ্য হাউসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য — ১০৩ জন ডেমোক্র্যাটের বিপরীতে ১০০ জন রিপাবলিকান। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানরা এগিয়ে — ২৭ জনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট ২৩ জন। ডেমোক্র্যাটরা তিনটি আসন বাড়তি জিতে সিনেট উল্টে দিতে এবং ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো পুনর্নির্বাচিত হলে গভর্নর পদ ধরে রাখতে চাইছে। তবে পেনসিলভানিয়ার সিনেটের মাত্র অর্ধেক আসনেই এবার নির্বাচন হচ্ছে।
ট্রাইফেক্টা পেলে ডেমোক্র্যাটরা ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, গর্ভপাতের অধিকার আইনে বিধিবদ্ধ করা এবং পরিবহন খাতে অর্থায়ন নিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। পেনসিলভানিয়া ডেমোক্র্যাটিক পার্টি শাপিরোর সঙ্গে যৌথভাবে কংগ্রেস, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভার নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য ‘রাইজ আপ পেনসিলভানিয়া ইনিশিয়েটিভ’ চালাচ্ছে। সম্প্রতি বাকস কাউন্টিতে এক প্রচার অনুষ্ঠানে শাপিরো বলেন, ‘এখানে আরও অনেক কিছু করার জন্য আমাদের সাহায্য করার ক্ষমতা আপনাদেরই হাতে।’
তবে রিপাবলিকানরা সিনেট রক্ষায় প্রস্তুত। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী পরিচালক জেমস মার্কলি এবিসি নিউজকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, পেনসিলভানিয়া স্টেট সিনেট কমনওয়েলথের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল হিসেবে কাজ করেছে — ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত হাউসের ‘উগ্র সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ’ এবং গভর্নর জশ শাপিরোর ‘ব্যর্থ নীতি’র বিরুদ্ধে।
মিনেসোটায় চিত্র আরও টানটান। সেখানে অঙ্গরাজ্য হাউস প্রায় সমান ভাগে বিভক্ত — ৬৭ জন ডেমোক্র্যাট, ৬৬ জন রিপাবলিকান এবং রিপাবলিকান-প্রবণ একটি আসন শূন্য। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার মাত্র একটি আসন বাড়তি। সিনেটে তারা ইতিমধ্যে এগিয়ে — ৩৪ জনের বিপরীতে রিপাবলিকান ৩৩ জন — এবং গভর্নর পদও ধরে রাখতে চাইছে তারা। ট্রাইফেক্টা পেলে আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচসহ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা, মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর বরাতে জানা গেছে।
নেভাদায় আইনসভার দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এবার তাদের লক্ষ্য রিপাবলিকান গভর্নর জো লোম্বার্দোর হাতে থাকা গভর্নর পদটি ছিনিয়ে নেওয়া। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যারন ফোর্ড জিতলে এবং অন্যান্য কক্ষে দল জয় ধরে রাখলে ট্রাইফেক্টা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। এর একটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে নেভাদার ‘রাইট-টু-ওয়ার্ক’ আইন বাতিল — যে আইনে শ্রমিকরা ইউনিয়নের বকেয়া না দিয়েও ইউনিয়ন সুবিধা পান।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক কম। রিপাবলিকান স্টেট লিডারশিপ কমিটির সভাপতি এডিথ জর্জ-তুনিয়ন এবিসি নিউজকে বলেন, তাদের মনোযোগ কৌশলগত বিনিয়োগে, যাতে ঐতিহাসিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে এই শরতে যত বেশি সম্ভব সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা যায়।
রিপাবলিকানদের ট্রাইফেক্টার লক্ষ্যের একটি অঙ্গরাজ্য কানসাস। সেখানে হাউসে রিপাবলিকান ৮৮ জনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট ৩৭ জন, আর সিনেটে ৩১ জনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট মাত্র ৯ জন — দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এবার তারা গভর্নর পদটি উল্টে দিতে চাইছে। ট্রাইফেক্টা পেলে তারা যে পদক্ষেপ নিতে পারে, তার একটি হলো অঙ্গরাজ্যের একমাত্র ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস আসনের সীমানা নতুন করে আঁকা — এর আগে মেয়াদ-সীমিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর সেই প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছিলেন।
অ্যারিজোনায় দুই দলই পরস্পরের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে চাইছে — ডেমোক্র্যাটরা চাইছে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত দুই কক্ষই উল্টে দিতে, আর রিপাবলিকানরা চাইছে গভর্নর পদ। রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী অ্যান্ডি বিগসের প্রচার শিবির আয়কর বিলোপ বা প্রতিস্থাপনসহ কর সংস্কার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ২০২৪ সালে বলেছিল, ট্রাইফেক্টা পেলে তারা শ্রমিক ও প্রজনন অধিকার নিয়ে আইন প্রণয়নের লক্ষ্য রাখবে।
অঙ্গরাজ্য রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত এক রিপাবলিকান কৌশলী এবিসি নিউজকে বলেন, অ্যারিজোনা ও পেনসিলভানিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থীরা নিচের সারির প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন, যদিও ওই প্রার্থীরা গভর্নর প্রার্থীদের চেয়ে ভালো ফল করতে পারেন। তিনি রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং জাতীয় পরিবেশের দিকেও ইঙ্গিত করেন এবং সতর্ক করেন, টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্য আইনসভায় অনুপ্রবেশ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা অতিরিক্ত আশাবাদী বলেই মনে হচ্ছে।
মিশিগানও দুই দলের জন্যই অনিশ্চিত লড়াইয়ের ময়দান — সেখানে ডেমোক্র্যাট গভর্নর থাকলেও আইনসভা বিভক্ত। হাউস উল্টাতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার চারটি বাড়তি আসন (বর্তমানে রিপাবলিকান ৫৮, ডেমোক্র্যাট ৫২), আর সিনেট উল্টাতে রিপাবলিকানদের দরকার দুটি আসন (বর্তমানে ডেমোক্র্যাট ২০, রিপাবলিকান ১৮)। রিপাবলিকানরা গভর্নর পদও জিততে চাইছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাইফেক্টা পেলে শিক্ষা, প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ও নৈতিকতা সংস্কারের পাশাপাশি ভোটাধিকার আইন নিয়ে কাজ করতে পারে বলে দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও ভোটবিটের বরাতে জানা গেছে; অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার মতো ভোট সংস্কার আনতে পারে, আর গভর্নর প্রার্থী জন জেমস প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।





