স্লো ওভার রেটে আইসিসির জরিমানার মুখে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ম্যাচের আগে সতর্কবার্তা
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শাস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। নির্ধারিত সময়ে ওভার শেষ করতে না পারায় দলের সব খেলোয়াড়কে ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
আবুধাবিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো ওভার শেষ করতে পারেনি দলটি, আর সেই ব্যর্থতারই মূল্য দিতে হচ্ছে এখন জরিমানা দিয়ে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ দলের জন্য এটি একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা হয়ে এল।
আইসিসির এমিরেটস আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি প্যানেলের সদস্য ডেভিড গিলবার্ট বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই শাস্তির সিদ্ধান্ত দেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সময়ের সব সমন্বয়ের পরও বাংলাদেশ এক ওভার পিছিয়ে ছিল।
আইসিসির খেলোয়াড় ও খেলোয়াড় সহায়ক কর্মীদের আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জরিমানা করা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত ওভার কম পড়বে, প্রতিটির জন্য দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা হবে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় অভিযোগ স্বীকার করে আইসিসির প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। অধিনায়ক শাস্তি মেনে নেওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির আর প্রয়োজন হয়নি।
মাঠের দুই আম্পায়ার আল্লাহউদ্দিন পালেকার ও ইজাতুল্লাহ সাফি, তৃতীয় আম্পায়ার আহসান রাজা এবং চতুর্থ আম্পায়ার আহমেদ শাহ দুররানি মিলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লো ওভার রেটের অভিযোগটি এনেছিলেন। তাঁদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ম্যাচ রেফারি সিদ্ধান্ত নেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে এমনিতেই চাপে আছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জরিমানার এই খবর দলের জন্য বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।
হৃদয়দের পরের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ২১ অক্টোবর আবুধাবিতেই হবে সেই ম্যাচটি। সিরিজে টিকে থাকতে হলে ওই ম্যাচে জয় যেমন জরুরি, তেমনি ওভার রেটের দিকেও এবার বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে দলকে।
স্লো ওভার রেটের অপরাধ বারবার ঘটলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়তে পারে, তাই মাঠে সময় ব্যবস্থাপনায় অধিনায়ক ও বোলারদের আরও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। আফগানিস্তান ম্যাচেই দেখা যাবে, এই শিক্ষা কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ।


