সিলেটে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণ, বিপাকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো
সিলেটের একটি এলাকায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো, যাদের প্রতিদিনের রান্না অনেকটাই এই সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
রান্নার জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস যেসব পরিবারের একমাত্র ভরসা, তাদের কাছে দাম দ্বিগুণ হওয়া মানে মাসের সংসার খরচে হঠাৎ বড় একটি ধাক্কা। আয় একই থাকলেও জ্বালানি বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় অন্য খাতের কেনাকাটায় টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বাজেট এমনিতেই হিসাব করে চলতে হয়। ভাড়া, খাবার, যাতায়াত আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচের পর হাতে খুব বেশি কিছু থাকে না। এমন অবস্থায় গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম দ্বিগুণ হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে বলেই পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে।
প্রকাশিত খবরে নির্দিষ্ট এলাকাটির নাম কিংবা সিলিন্ডারপ্রতি আগের দাম ও বর্তমান দামের অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। শুধু জানানো হয়েছে, দাম আগের অবস্থার তুলনায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে এবং তাতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।
সিলিন্ডার গ্যাসের দামের প্রভাব শুধু বাড়ির রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ছোট খাবারের দোকান, হোটেল ও চায়ের দোকানেও একই জ্বালানি ব্যবহার হয়। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়লে তার ঢেউ গিয়ে লাগে সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন খরচে।
বিকল্প জ্বালানির সুযোগ সীমিত থাকায় বাড়তি দাম মেনে নিয়েই সিলিন্ডার কিনতে হয় অনেক পরিবারকে। কেউ কেউ ব্যবহার কমিয়ে সাশ্রয়ের চেষ্টা করলেও রান্নার মতো প্রতিদিনের প্রয়োজন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে প্রকাশিত খবরে কিছু বলা হয়নি। সরবরাহে ঘাটতি, পরিবহন খরচ নাকি খুচরা পর্যায়ের কারসাজি — কোনটি দায়ী, তা স্পষ্ট নয়। তবে একবারে দ্বিগুণ বৃদ্ধি স্বাভাবিক বাজার ওঠানামার মধ্যে পড়ে না বলেই ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। খুচরা দোকানগুলো নির্ধারিত দামের বাইরে কতটা বাড়তি নিচ্ছে, তা যাচাই করা না হলে এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
গ্যাস সিলিন্ডার এখন শহর ও শহরতলির বেশির ভাগ বাসাবাড়ির নিত্যসঙ্গী। তাই এর দামের যেকোনো বড় পরিবর্তন সরাসরি ছুঁয়ে যায় লাখো পরিবারের মাসিক বাজেটকে। সিলেটের ওই এলাকার চিত্রটি সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।
এখন দেখার বিষয়, দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন বা বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয় কি না। তত দিন পর্যন্ত বাড়তি দামের বোঝা বয়েই সংসার চালাতে হবে বিপাকে পড়া পরিবারগুলোকে।


