গোলখরায় ভুগছেন ভিনিসিয়ুস, রিয়ালে জায়গা নিয়েই এখন প্রশ্ন
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে মাঠে দেখা যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আগের সেই ঝলক যেন আর নেই। চলতি মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এই ভিনিসিয়ুস কি আসল ভিনিসিয়ুস, নাকি ফর্ম হারিয়ে অন্য কেউ হয়ে গেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। ২০২৬–২৭ মৌসুমে এ পর্যন্ত রিয়ালের হয়ে ১০ ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের গোল মাত্র একটি। এর মধ্যে লা লিগায় আট ম্যাচে তাঁর একটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই ম্যাচে গোলও নেই, অ্যাসিস্টও নেই।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর কোনো মৌসুমে এটাই ভিনিসিয়ুসের সবচেয়ে বাজে শুরু। যে খেলোয়াড় গত কয়েক মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণের প্রাণ ছিলেন, তাঁর এমন শুরু সমর্থকদের কাছেও অচেনা।
গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আরও প্রকট। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৫টি শট নিয়ে ভিনিসিয়ুস গোল করেছেন মাত্র একটি। অথচ তাঁর সুযোগগুলো থেকে প্রত্যাশিত গোলের সংখ্যা ছিল ৩.১৪—সেখান থেকে মাত্র এক গোল সত্যিই অবিশ্বাস্য।
শট থেকে গোল পাওয়ার হারেও তিনি পিছিয়ে। মাত্র ৪.৪ শতাংশ হারে গোল করছেন তিনি, অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শটে চারেরও কম গোল। ২০টির বেশি শট নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এই হার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
সর্বশেষ ম্যাচের ছবিটাও একই রকম। গত বৃহস্পতিবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে রিয়ালের ৪–৩ গোলের জয়ের ম্যাচে ৫৯ মিনিটে তাঁকে তুলে নেন কোচ জোসে মরিনিও। গোল তো পানইনি, ছিল না অ্যাসিস্ট, পোস্টে শট কিংবা বিপদ তৈরি করার মতো পাসও।
প্রতিটি ড্রিবলিংয়েও আটকে গেছেন তিনি সেই ম্যাচে। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস নিজেই বলতে বাধ্য হন, সেরা ফর্মে না থাকায় তিনি নিজের ওপরই বিরক্ত। তারকা খেলোয়াড়ের এমন স্বীকারোক্তি তাঁর হতাশার গভীরতাই বোঝায়।
তাঁর জায়গায় নেমে এনদ্রিক একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট পাওয়ায় তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। মরিনিও ওই ম্যাচের আগেই এনদ্রিকের ওপর ভরসা রাখার কথা স্পষ্ট করেছিলেন, আর মাঠে নেমে সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তরুণ এই খেলোয়াড়।
চাপ বাড়াচ্ছেন ইয়ান দিওমান্দেও। লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। রিয়ালের সর্বশেষ চার ম্যাচেই গোল অথবা অ্যাসিস্ট আছে আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গারের। দুই উইংয়েই খেলতে পারেন তিনি।
ভিনিসিয়ুস লিগে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকায় বাঁ উইংয়ে সেভিয়ার বিপক্ষে প্রথম মাঠে নেমেই দারুণ খেলেছেন দিওমান্দে। সামনে এল ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে পাবে না রিয়াল।
গত মৌসুমের সঙ্গে তুলনা করলেও পতন স্পষ্ট। গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে প্রতি ম্যাচে গড়ে ০.৬ গোলে অবদান ছিল ভিনিসিয়ুসের, মোট গোল ছিল ২২টি ও অ্যাসিস্ট ১০টি। এ মৌসুমে সেই গড় নেমে এসেছে ০.৪-এ। ড্রিবলিংয়েও তিনি এখন দিওমান্দের পেছনে—দিওমান্দের সফলতার হার ৬৫.৭ শতাংশ, ভিনিসিয়ুসের ৪৬.৫ শতাংশ।
বিশ্বকাপের পর মুখের কসমেটিক সার্জারির পর ব্রাজিলে যে ‘আসল নাকি নকল’ ভিনিসিয়ুস নিয়ে ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব চালু হয়েছিল, তা তখন ধোপে টেকেনি। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সই এখন সেই রসিকতাকে নতুন করে সামনে আনছে। ক্লাসিকোতে দিওমান্দে ভালো খেললে একাদশে জায়গা ধরে রাখতে ভিনিসিয়ুসের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে।




