প্যারিসে লুটপাটের রাতে ভাঙচুরের শিকার ম্যাকডোনাল্ডস, পুড়ল ক্যাফে, খালি হলো সুপারমার্কেট
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে খাবারের দোকান, ক্যাফে ও সুপারমার্কেট। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয়, যেখানে লুটেরারা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই রান্না করার চেষ্টা পর্যন্ত করেছে।
গারে দ্য লে’স্তের কাছে বুলভার দ্য মাজেন্টায় অবস্থিত ম্যাকডোনাল্ডসটি তছনছ ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দোকানটির জানালা ভাঙা হয়েছে এবং ভেতরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভেতরের চিত্র ছিল আরও অদ্ভুত। কম্পিউটার স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর একটি আইসক্রিম মেশিন থেকে ভ্যানিলা গড়িয়ে পড়ছিল কেচাপে মাখা মেঝেতে। এমন বিশৃঙ্খলার মধ্যেই অনুপ্রবেশকারীরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই রাঁধার চেষ্টা করে।
একজন নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি ও তাঁর কুকুর প্রায় ২০ জনকে রেস্তোরাঁ থেকে তাড়িয়ে দেন। মার্কিনভিত্তিক এই ফাস্টফুড চেইনটির কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে জানা যায়নি।
তবে ম্যাকডোনাল্ডস একা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্লাস দ্য লা রেপুবলিকের কাছে লা বারিক নামের একটি পাড়ার ক্যাফে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাফেটির মালিকদের ছেলে জানিয়েছেন, হামলার সময় তাঁর মা ভেতরে ছিলেন, পরে মাথায় আঘাত নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একই এলাকায় বুলভার দ্য মাজেন্টায় নিকোলা নামের একটি ওয়াইন শপও ধ্বংস হয়েছে। ভাঙা বোতল ও ওয়াইন দোকানের বাইরের এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল। মদের দোকান থেকে ক্যাফে—সব ধরনের খাবার ও পানীয়ের ব্যবসাই এই রাতের সহিংসতার শিকার হয়েছে।
সুপারমার্কেটগুলোও রেহাই পায়নি। ফ্রাঁপ্রি, মনোপ্রি, পিকার ও কারফুর সিটির বিভিন্ন শাখা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। প্লাস দ্য লা রেপুবলিকের কাছে রু বোরেপেয়ারের একটি ফ্রাঁপ্রিতে তাক খালি করে ফেলা হয়, পণ্য চুরি করা হয় অথবা মেঝেতে পিষে ফেলা হয়।
বুলভার দ্য মাজেন্টায় একটি ইন্টারমার্শে এক্সপ্রেসও লুট হয়েছে। সুপারমার্কেটটির কাছে প্রতিবেদন তৈরির সময় ইউরোনিউজের একটি দল মুখোশধারীদের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে। অন্য জায়গায় লুটেরাদের সুপারমার্কেট থেকে খাবার, জুস ও মদভর্তি ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা গেছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞ ছিল শনিবারের বিক্ষোভের পর ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক সহিংসতার অংশ। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও অন্যান্য অসন্তোষ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দাঙ্গায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের দুটি জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফরাসি বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অলিভিয়া ওস্ত্রো, যিনি এখন দক্ষিণ ফ্লোরিডায় মেইসন ওস্ত্রো পরিচালনা করেন, বলেছেন এই অস্থিরতা প্যারিসের বাইরেও বিস্তৃত টানাপোড়েনের প্রতিফলন। তিনি ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ ও শত্রুতা উসকে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজনের মন্তব্য, এর পরিণতি ভোগ করবেন সাধারণ ফরাসি মানুষ, সরকার নয়—যাদের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে, ব্যবসা ও বাড়ি লুট হয়েছে এবং শারীরিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তারাই মূল্য দেবেন। আরেকজনের মন্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত, এগুলো আর বিক্ষোভ নয়।
এদিকে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় সরকার ফ্রান্সে ভ্রমণকারীদের বড় ভিড় এড়িয়ে চলতে ও সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। দোকান মালিক ও বাসিন্দাদের জন্য এখন প্রশ্ন, সহিংসতার এই ঢেউ কবে থামবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলো আবার কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবে।






