ইনফান্তিনোকে নিয়ে ফিফাকে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে নথিসহ জবাবের সময় বেঁধে দিল ইউরোপ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন শেষই হচ্ছে না। বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তাবিত ৪২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিলের পরও সেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ফিফা প্রধানের। এবার পরিকল্পনাটির নথি প্রকাশসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে ৪২টি প্রশ্নের জবাব চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
উয়েফা এসব প্রশ্নের জবাব ও সংশ্লিষ্ট নথি দেওয়ার জন্য ফিফাকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। ফলে ফিফা ও উয়েফার মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এসব বিষয়ে ইনফান্তিনোর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফার কাছে ৪২টি বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠিয়েছে উয়েফা।
উয়েফা জানিয়েছে, ফিফা সভাপতির নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ মার্চ— এমন সময়সীমার কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য পরবর্তী কাউন্সিল সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ৪২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশ্বকাপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে পরিচিত এই পরিকল্পনা জুলাইয়ে সামনে এনেছিলেন ফিফা সভাপতি। তবে ইউরোপ থেকে তীব্র বিরোধিতার মুখে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এরপরও পরিকল্পনাটির বিস্তারিত নথি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উয়েফার। সেই নথি প্রকাশের দাবিই এখন দুই সংস্থার বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
উয়েফার পাঠানো প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিফা সভাপতির ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধার বিবরণ, সংগীতশিল্পী মার্ক অ্যান্থনিকে দেওয়া অর্থের হিসাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের শৃঙ্খলাজনিত মামলাটি কীভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা।
এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে ফিফার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক, পাশাপাশি সংস্থাটির বিচারিক, নির্বাচনসংক্রান্ত ও নৈতিকতা কমিটির স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে উয়েফা।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আরও তথ্য পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের কাছেও আবেদন করেছে উয়েফা। বাতিল হয়ে যাওয়া পরিকল্পনা-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শপথের অধীনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালতের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক সমন জারির অনুমতি চেয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ফিফার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, উয়েফা ইনফান্তিনোকে হয়রানি করছে। ফলে দুই সংস্থার মধ্যে বিরোধ এখন প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন ছাড়িয়ে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও গড়াচ্ছে।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের পক্ষে উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিদিস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর ক্ষমা প্রার্থনা ও ব্যাখ্যা তাঁদের মূল উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কারের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
চিঠিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এত বড় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ফিফা কাউন্সিলকে কেন যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। উয়েফার বক্তব্য, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতে নেওয়া সিদ্ধান্তের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ফিফার পরবর্তী কাউন্সিল সভা আগামী ১৬ ডিসেম্বর দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে উয়েফার দাবি, তার আগেই এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে, কারণ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতির নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর। উয়েফার মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়— এখনই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।




