দেশ গঠনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে একটি মহল, রংপুরে মন্দির পরিদর্শনে বললেন প্রধানমন্ত্রী
ঐক্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরেও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি ওই মহলটিকে এ ধরনের অপচেষ্টা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীতে রংপুরের ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাইরে এই মন্দির পরিদর্শন ছিল তাঁর পূজার দিনের কর্মসূচির কেন্দ্রীয় অংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বর্তমান সরকার। জনগণের প্রত্যাশিত সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়তে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগেই ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাই রংপুরের উন্নয়নে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
শুধু সিটি করপোরেশন নয়, জেলা পরিষদের মাধ্যমে এ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও সেতু, কালভার্ট ও রাস্তাঘাটের দৃশ্যমান উন্নয়নে কাজ করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। এই ঘোষণায় নগরকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাইরে গ্রামীণ অবকাঠামোও গুরুত্ব পেল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনীতির ধারা পরিবর্তন করে জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বিএনপি সরকার। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সবার জন্য নিরাপদ ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, যেখানে ভেদাভেদ ছিল না। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের আন্দোলনেও ছাত্র-জনতার মধ্যে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ ছিল না।
অতীতের এসব শিক্ষা ধারণ করে আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান—দুটিকেই ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এ সময় ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে এই চেক হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে পরিদর্শন পর্বের আনুষ্ঠানিক অংশ শেষ হয়।
পরে দুপুর ১টায় মন্দিরের সম্মুখ থেকে কিছুদূর পায়ে হেঁটে সড়কের দুই ধারে অপেক্ষারত মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ও অভিবাদনের জবাব পেতে সড়কের দুই পাশে মানুষের ভিড় জমেছিল।
এরপর বিশেষ বাসে করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিমানযোগে রাজশাহীর কয়েকটি পূজা মন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর, ফলে পূজা পরিদর্শনের এই সফর রংপুর পর্বের পরও চলমান থাকে।
রাজধানীর বাইরে রংপুরে পূজা মন্দির পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ স্থানীয় জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।
সব মিলিয়ে রংপুরের এই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে তিনটি বার্তা দিয়েছেন—সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান, বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা থেকে সরে আসার সতর্কবার্তা এবং অবহেলিত রংপুরের উন্নয়নে বড় বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি।



