মৌসুমের সবচেয়ে বড় ম্যাচে পার্ক দে প্রাঁসে মুখোমুখি পিএসজি-বার্সেলোনা, নজরে ইয়ামাল
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা আজ রাতে। মঙ্গলবার রাতে প্যারিসের পার্ক দে প্রাঁসে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনা। দুই দলের আক্রমণভাগের তারকাদের লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে।
বার্সেলোনা আসছে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। লা লিগা থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুই প্রতিযোগিতাতেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। এবার তাদের সামনে ঘরের মাঠে পিএসজির কঠিন পরীক্ষা।
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকের প্রস্তুতির কেন্দ্রে বার্সেলোনার আক্রমণ সামলানোর চ্যালেঞ্জ। তার চোখে, লামিন ইয়ামালকে নিষ্ক্রিয় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বার্সেলোনাকেই বলের দখল থেকে দূরে রাখা।
এবারের মৌসুমে বার্সেলোনার আক্রমণে ইয়ামাল যেন এক দুর্বার শক্তি। এখন পর্যন্ত তিনি নিজে ৯টি গোল করেছেন, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১০টি গোল। গোল করা ও করানো—দুই ক্ষেত্রেই তার অবদান ফ্লিকের দলের বড় ভরসা, তাই পিএসজির বিপক্ষেও তাকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা করতে হচ্ছে এনরিকেকে।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালকে আটকানোর কৌশল ব্যাখ্যা করে পিএসজি কোচ বলেন, “ইয়ামালকে থামানোর সেরা উপায় হলো বার্সেলোনার কাছ থেকে বল দূরে রাখা। সে যদি বল না পায়, সবকিছু ঠান্ডা থাকবে। এটাই হবে আদর্শ, কিন্তু আমরা জানি সেটা হচ্ছে না। কারণ বার্সেলোনা ও ইয়ামালের বিপক্ষে খেলা কঠিন।”
তবে বার্সেলোনার বিপদ শুধু ইয়ামালেই সীমাবদ্ধ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন এনরিকে। তার ভাষায়, “তাদের মানের দলকে প্রতিহত করার উপায় হলো সতর্ক থাকা এবং দলগত খেলা। কিন্তু এটা শুধু লামিন নয়, রাফিনিয়া, পেদ্রি, আরও অনেক সেরা খেলোয়াড় আছে।”
মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকের পর থেকেই ইয়ামালের সঙ্গে লিওনেল মেসির তুলনা চলছে। খেলার ধরন, মাঠের অবস্থান এবং ১০ নম্বর জার্সি—এসব মিল সেই আলোচনায় বাড়তি রসদ জুগিয়েছে। তবে বার্সেলোনায় মেসিকে কোচিং করানো এনরিকে মনে করেন, এই তুলনা ইয়ামালের জন্য এখনই উপকারী নয়।
এনরিকে বলেন, “আমি মনে করি লামিন লামিন হতে চায় এবং সে খুব ভালো করছে। খেলার সবদিক থেকে সে উন্নতি করছে। কিন্তু সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে যদি তাকে তুলনা করেন, তাহলে একজনই বিজয়ী হবে। সম্ভবত আমরা এ নিয়ে ভবিষ্যতে কথা বলতে পারি। কিন্তু ঠিক এখন মেসির সঙ্গে তাকে তুলনা করা ভালো ব্যাপার নয়।”
ইয়ামালকে ঘিরে আলোচনার বাইরে এই ম্যাচে আলাদা নজর থাকবে রাফিনিয়া ও উসমান দেম্বেলের দিকেও। একসময় দুজনেরই প্রধান পরিচয় ছিল উইঙ্গার হিসেবে। এখন দুজনই নিজেদের খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন—রাফিনিয়া বার্সেলোনার হয়ে এবং দেম্বেলে পিএসজির হয়ে আক্রমণের কেন্দ্রে আরও বেশি প্রভাব ফেলছেন।
লিডসে থাকার সময় রাফিনিয়া মূলত ডান উইংয়ে খেলতেন। বার্সেলোনায় তাকে বাঁ উইংয়ে খেলতে হয় এবং ২০২২ সালের নভেম্বরে নিজের পছন্দের পজিশন নিয়ে কোচ জাভি হার্নান্দেসের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পরে হান্সি ফ্লিকের অধীনে তার ভূমিকা বদলাতে থাকে; চলতি মৌসুমে মাত্র ৯টি অফিসিয়াল ম্যাচেই তার গোল ১৪টি। তবে চোটের কারণে সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচ মিস করার পর রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে বদলি হিসেবে ফিরেছেন তিনি; পিএসজির বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয়।
দেম্বেলের ক্ষেত্রেও পজিশন বদলের প্রভাব স্পষ্ট। কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজি ছাড়ার পর এনরিকে তাকে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পজিশনে ৭৪ ম্যাচে ৪৭ গোল করেছেন দেম্বেলে, অথচ ডান উইঙ্গার হিসেবে ২১০ ম্যাচে তার গোল ৪৮টি—অর্থাৎ অনেক কম ম্যাচ খেলেই আক্রমণের কেন্দ্রে প্রায় একই সংখ্যক গোল করেছেন ফরাসি তারকা।
তবে দুই দলকেই চোটের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে। বার্সেলোনা রক্ষণভাগে জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়াকে চোটের কারণে পাচ্ছে না; অন্যদিকে পিএসজিরও নেই চোট পাওয়া লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেস। রাফিনিয়া ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং দলে ফিরলেও বার্সেলোনার রক্ষণে এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, আক্রমণের ঝলক আর কৌশলের লড়াইয়ে জমজমাট এক রাতের অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।




