দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সাড়ে ৩ হাজার কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন, বিসর্জনে প্রস্তুত ডুবুরি দল
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উপাসনালয়, পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ উপলক্ষে বাহিনীটির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে — উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঘোষিত মোতায়েনের খবর।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিজে নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা এবং সেখান থেকেই মোতায়েনের সংখ্যা জানানোয় ব্যবস্থাটির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, ‘উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের জানমাল নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’ অর্থাৎ পূজার নিরাপত্তাকে বাহিনীটি তাদের নিয়মিত দায়িত্বের সম্প্রসারণ হিসেবেই দেখছে।
মহাপরিচালক জানান, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ১৪৪টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। শুধু এই একটি জোনেই দেড় শতাধিক মন্দির ও মণ্ডপ বাহিনীটির নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এসেছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো এলাকায় নজরদারির ফাঁক না থাকে।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বিসর্জনস্থলগুলোতে বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান মহাপরিচালক। নদী ও উপকূলীয় এলাকায় বিসর্জনের সময় ভিড় ও পানির ঝুঁকি থাকে বলেই এই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উৎসবের ভিড়ে কারও সহায়তা দরকার হলে এই একটি নম্বরই বাহিনীটির সঙ্গে যোগাযোগের দ্রুততম মাধ্যম।
মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাকেও তিনি সফল উৎসবের শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
দেশজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। সিলেট থেকে খুলনা — প্রতিটি বিভাগেই মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজা ও দর্শনার্থীদের ভিড়, আর ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের এই বড় মোতায়েন উৎসবের সামগ্রিক নিরাপত্তাচিত্রটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ করল।
পূজার বাকি দিনগুলো এবং বিসর্জন পর্যন্ত মোতায়েন থাকা সাড়ে ৩ হাজার সদস্যের ওপরই এখন দায়িত্ব থাকবে উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা অটুট রাখা। বাহিনীটির প্রত্যাশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু চললে এবারের পূজা শেষ হবে শান্তিপূর্ণভাবেই।




