সাংবাদিক আলিফ হত্যা: মূল শুটারের ভাগ্নে অপূর্বের আরও চার দিনের রিমান্ড
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অপূর্বকে (২২) আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিক আলিফ হত্যার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অপূর্ব। সে সময় তার কাছে একটি অস্ত্রভর্তি ব্যাগও ছিল।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপূর্ব এসব তথ্য স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো আমরা যাচাই করছি।’
পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাত ১২টার পর দুর্গাপুর পৌর শহরের পুরাতন সিনেমা হলের সামনে থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার অপূর্ব হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন শুটারের ভাগ্নে। ওই মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন পেশাদার খুনি হিসেবে পরিচিত এবং তার ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো অপূর্বের কাছে রাখা হতো বলে পুলিশের ভাষ্য। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অপূর্বর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পরদিন রোববার অপূর্বকে আদালতে হাজির করলে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত সোমবার তিনি পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আবার আদালতে হাজির করা হলে তদন্তের প্রয়োজনে আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাংবাদিক হত্যার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।
পুলিশের দাবি, অপূর্ব ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্যও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসেছে। তবে সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
এখন রিমান্ডে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও শুটারসহ জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। মূল সন্দেহভাজন শুটারকে গ্রেপ্তারই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।




