পুতিনকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার রাশিয়া সফরে গিয়ে এই প্রস্তাব তুলে ধরবেন।
শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য উইটকফের এই রাশিয়া সফরের কথা জানানো হয়েছে। তিন নেতার বৈঠকের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা হবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর প্রথম এ ধরনের শীর্ষ বৈঠক।
মঙ্গলবার নরওয়েতে জেলেনস্কি ও উইটকফের মধ্যে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এই ত্রিপক্ষীয় নেতৃ পর্যায়ের আলোচনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। বৈঠকটির আয়োজক নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
স্টোরে বলেন, উইটকফ বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে যাবেন, সেখানে রুশ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই বৈঠক থেকে পাওয়া ধারণা ও ইউরোপীয় ও আমেরিকান সহযোগীদের তৈরি করা প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন, এবং সম্ভবত নেতৃ পর্যায়ের একটি বৈঠকের পথ তৈরি করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ ভালো ও গঠনমূলক আলোচনা করেছি — গত সপ্তাহের ঘটনাবলির পর যা প্রয়োজনীয় ছিল।’ ওসলোর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো ইউক্রেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে কয়েক দিনের উচ্চ উত্তেজনার পর।
এর আগেও পুতিনকে জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ক্রেমলিন সম্প্রতি জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের বৈঠক কেবল মস্কোতেই হতে পারে — যা কিয়েভের জন্য গ্রহণ করা কঠিন শর্ত হিসেবে দেখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, দিনটি ইতিবাচক ছিল। তিনি বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নগুলো কেবল নেতারাই আলোচনা করতে পারেন এবং যেকোনো শান্তি মীমাংসার জন্য প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন হবে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, কোনো চুক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি ইউক্রেন সেই চুক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। এই অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, কিয়েভকে বাইরে রেখে সাজানো কোনো সমঝোতা তিনি মেনে নেবেন না।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি ইউরোপের ভেতরেও চলছে আরেক বিতর্ক। কয়েকজন ইইউ নেতা ইউক্রেনের যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ ব্যবহারের তিক্ত বিতর্কটি আবার সামনে আনতে চান।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অর্পো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, এবং সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে রাশিয়ার জব্দ সম্পদ ব্যবহারের বিতর্ক আবার খুলে হলেও ইউরোপকে ইউক্রেনকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার পথ খুঁজতে হবে।
সব মিলিয়ে, উইটকফের রাশিয়া সফর ও ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তাব ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কূটনীতিতে নতুন গতি আনার চেষ্টা। তবে ক্রেমলিন এই প্রস্তাবে কী জবাব দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগ কতদূর এগোয়।





