চুয়েটের সংকট মেটাতে ইউজিসির কমিটি, কিন্তু কমিটিতে নেই চুয়েটের কেউই
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সংকট সমাধানে গঠিত এই কমিটিতে চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।
সংকটের সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। সেদিন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
প্রায় এক মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। সেই সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ইউজিসি এই পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে গঠিত কমিটিতে চুয়েটের কোনো প্রতিনিধির জায়গা না হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তাদের মতে, যাদের নিয়ে সংকট, তাদের ছাড়া সমাধান কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘চুয়েটের সমস্যা নিরসনে গঠিত কমিটিতে চুয়েটেরই কেউ নেই। এর থেকেও বড় প্রশ্ন হলো, যে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই সভারই বৈধতা কতটুকু? কারণ, ওই সিন্ডিকেট সভাতেও চুয়েটের কেউ ছিলেন না।’
এখন দেখার বিষয়, এই পরামর্শক কমিটি সুপারিশ দেওয়ার পর সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং প্রায় এক মাস ধরে স্থবির চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হয়।



