ইলহান ওমর জেলে যেতে পারেন বা বিতাড়িত হতে পারেন, বললেন ট্রাম্প; তাঁকে ‘দেশের জন্য কলঙ্ক’ আখ্যা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর জেলে যেতে পারেন কিংবা তাঁকে বিতাড়িতও করা হতে পারে। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে তাঁর বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি মিনেসোটার এই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিকে ‘আমাদের দেশের জন্য কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দেন।
জালিয়াতি প্রতিরোধে প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণার অনুষ্ঠানে ফক্স বিজনেসের সংবাদদাতা এডওয়ার্ড লরেন্স ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ওমরের বয়সে কোনো সমস্যা থাকলে তা তাঁর বিতাড়নের কারণ হতে পারে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি বিতাড়িত হতে পারেন। তিনি জেলেও যেতে পারেন। জানেন, সবাই শুধু বিতাড়নের কথা বলছেন। না, তিনি জেলে যেতে পারেন।’
তবে এই বক্তব্যের সময় প্রেসিডেন্ট ওমরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অভিযোগের কথা উল্লেখ করেননি কিংবা নতুন কোনো প্রমাণও হাজির করেননি। ‘এটা শুধু আমার মতামত,’ যোগ করে তিনি ওমরকে ‘অত্যন্ত অসৎ একজন ব্যক্তি’ বলে অভিযুক্ত করেন এবং বলেন, তিনি ‘আমাদের দেশকে ঘৃণা করেন’।
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ ঘিরে চলমান একটি ফেডারেল তদন্ত। ফেডারেল এজেন্টরা ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনসহ নানা জিনিসপত্র জব্দ করে।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে এই অভিযোগ যে ওমর অথবা তাঁর বাবা অভিবাসন কাগজপত্রে তাঁর জন্মের বছর ভুলভাবে উল্লেখ করেছিলেন। বিতর্কের মূল বিষয়টি হলো, ২০০০ সালে তাঁর বাবা মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ওমর নাবালিকা ছিলেন কি না এবং সেই সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন কি না, নাকি তখন তিনি ইতিমধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ করায় তাঁকে আলাদাভাবে আবেদন করতে হতো।
এর আগে হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক প্রধান টম হোমান বলেছেন, অভিবাসন জালিয়াতি প্রমাণিত হলে ওমর তাঁর নাগরিকত্ব হারাতে এবং বিতাড়িত হতে পারেন। শনিবার ‘দ্য বিগ উইকেন্ড শো’ অনুষ্ঠানে হোমান বলেন, নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মিথ্যা বললে নাগরিকত্ব বাতিলের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তা আগেও প্রয়োগ করা হয়েছে; প্রমাণ সেদিকে গেলে এমনটাই ঘটতে পারে।
হোমান আরও বলেন, ওমরের ক্ষেত্রে অন্য সবার মতো একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে। তদন্তকারীদের ফলাফলের বিস্তারিত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি, তবে বলেছেন, তাঁকে জানানো হয়েছে তদন্তকারীদের হাতে শক্তিশালী মামলা রয়েছে এবং প্রমাণ যেদিকে নিয়ে যাবে সেদিকেই যাওয়া হবে।
ওমর নিজে কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিসসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই তদন্তকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের একজন বিশিষ্ট সমালোচকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে নিন্দা করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ওমরের পক্ষে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই লক্ষ্যবস্তু করার নীতিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিযুক্ত করেছেন।
মঙ্গলবারের বক্তব্যে ট্রাম্প ওমরের যুক্তরাষ্ট্র-সমালোচনারও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সোমালিয়া থেকে এসে ওমর কেন আমেরিকানদের বলতে চান কীভাবে দেশ চালাতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘এরপর তিনি এখানে এসে আমাদের বলতে চান কীভাবে আমেরিকা চালাতে হবে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র চালাতে হবে।’
ট্রাম্প ওমরের সাংবিধানিক অধিকারের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁর কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়াকে ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন। বক্তব্যের শেষ দিকে অবশ্য তিনি বলেন, তিনি আশা করেন ওমর ন্যায্য আচরণ পাবেন।
ওমরের কার্যালয়ের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্ক—দুই ক্ষেত্রেই সামনের সারিতে রয়েছে।
আগামী দিনে তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প-ওমর দ্বন্দ্ব যে মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট।





