…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › ইউরোপ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ইউরোপ

রোমানিয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী লুকা নিকুলেস্কুর শপথ, মাসের পর মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোমানিয়ায় মাসের পর মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন স্বতন্ত্র কূটনীতিক লুকা নিকুলেস্কু। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পর তাঁর প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন, আর এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে একটি সংখ্যালঘু সরকার কাজ শুরু করল।

পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে নিকুলেস্কুর মন্ত্রিসভার পক্ষে পড়ে ২৮০ ভোট, বিপক্ষে পড়ে ৫৮ ভোট। ভোটের এই ব্যবধান আপাতত তাঁকে কাজ শুরু করার মতো স্বস্তি দিলেও বিশ্লেষকদের মতে সামনের পথ সহজ হবে না, কারণ তাঁর সরকার সংখ্যালঘু এবং সমর্থনের ভিত্তি এখনো অস্থায়ী।

নিকুলেস্কুর বয়স ৫৫ বছর। পেশায় কূটনীতিক হলেও সাংবাদিকতা দিয়েই তাঁর কর্মজীবনের একটি বড় অধ্যায় গড়ে উঠেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি নেতা না হওয়ায় তাঁকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই দেখা হচ্ছে, আর সেই পরিচয়ই টানাপোড়েনের এই সময়ে তাঁর মনোনয়নের পেছনে বড় যুক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান গত ৫ অক্টোবর নিকুলেস্কুকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করেন। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্টের চতুর্থ পছন্দ; এর আগে তিনজন মনোনীত ব্যক্তি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। কয়েক সপ্তাহ আগে পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্টের তৃতীয় পছন্দ সিগফ্রিড মুরেশানের প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভা প্রত্যাখ্যান করলে সংকট আরও গভীর হয়েছিল।

রোমানিয়ার এই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত গত মে মাসে, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইলিয়ে বোলোজান অনাস্থা প্রস্তাবে ক্ষমতা হারান। মজার বিষয় হলো, অনাস্থা প্রস্তাবটি যৌথভাবে এনেছিল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, যারা ছিল বোলোজানের নিজের জোট সরকারেরই অংশীদার, এবং আলায়েন্স ফর দ্য ইউনিটি অব রোমানিয়ানস। বোলোজান সরকার কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি অনুসরণ করছিল, যা নিয়ে জোটের ভেতরেই অসন্তোষ জমেছিল।

বোলোজান ২০২৫ সালে দায়িত্ব নিয়েছিলেন কমিউনিজমের পতনের পর রোমানিয়ার অন্যতম ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং বিশাল বাজেট ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ আর জোট রাজনীতির টানাপোড়েনে তাঁর সরকার টিকতে পারেনি।

দেশটির অস্থিরতার ইতিহাস আরও পুরোনো। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই রোমানিয়া টানা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং কারিগরি মন্দার চাপ। গত বছর দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতির একটি রেকর্ড করেছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাই সবচেয়ে বড় কাজের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা। নিকুলেস্কু জানিয়েছেন, তিনি অবিলম্বে কাজ শুরু করতে চান। তাঁর ভাষায়, শুরু থেকেই পরিষ্কার করতে হবে এটি কেমন সরকার হবে — এমন একটি সরকার, যা দেশে তহবিল ও বিনিয়োগ নিয়ে আসবে।

তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই শান্ত পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। নিকুলেস্কুর প্রতি সমর্থন কয়েকটি দলের সঙ্গে ছয় মাসের একটি বন্দোবস্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আর দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা এখনো হয়নি। সেই সমঝোতা না হলে ছয় মাস পর আবারও অনিশ্চয়তা ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংকটের এই পুরো পর্বজুড়ে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাও ঝুলে ছিল। মুরেশানের মন্ত্রিসভা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। এমন এক সময়ে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যখন প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রোমানিয়া ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন — দুই জোটেরই সদস্য।

আপাতত আগাম নির্বাচনের আশঙ্কা পেছনে ফেলে নতুন সরকার কাজ শুরু করল। তবে অর্থনীতি সামলানো, ঘাটতি কমানো আর ছয় মাসের সমর্থনের বন্দোবস্তকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিতে রূপ দেওয়া — এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিকুলেস্কু কতটা সফল হন, তার ওপরই নির্ভর করবে রোমানিয়ার রাজনৈতিক স্থিতি কত দিন টিকে থাকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

ইউরোপ বিভাগের আরও খবর

ইউরোপ

ফ্রান্সে রাতের কারফিউ ‘যতদিন প্রয়োজন’ চলবে: প্যারিস-লিওঁর পর মার্সেইতেও বিধিনিষেধ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও লিওঁ শহরের কেন্দ্রগুলোতে মঙ্গলবার নতুন করে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। বছরের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দাঙ্গার পর প্রথম শান্ত র…

ইউরোপ

বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা প্যাকেজ অনুমোদন ইতালির: মিলানে ৫০০ সেনা, দাঙ্গায় পাঁচ বছরের জেল

বিক্ষোভ-সহিংসতা ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে ইতালির সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পাশাপা…

ইউরোপ

শনিবারের দাঙ্গার দায় কার—এই প্রশ্নে বিভক্ত ফ্রান্স, ছয় মাস পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে তপ্ত রাজনীতি

‘এটা ফ্রান্সের মুখ নয়! আপনারা সংবাদমাধ্যম শুধু শনিবারের বিক্ষোভের সহিংসতা আর ধ্বংসই দেখান। কিন্তু সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। সেটা ‘আমরা’ নই। সেটা ফ্রান্স…