বায়োমেট্রিক না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এনআইডির আবেদন: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত
অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে শুধু অনলাইনে আবেদন করে মাসের পর মাস তা ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ আর থাকছে না।
ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য না দিয়ে দীর্ঘদিন আবেদন ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বায়োমেট্রিক তথ্য ছাড়া কোনো আবেদনই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয় না; অথচ বহু আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন জমা দিয়েই থেমে যান, ফলে সেগুলো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় জমতে থাকে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যাতে সিস্টেমেই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়া অসম্পূর্ণ আবেদনগুলো চিহ্নিত ও বাতিল করা যায়।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি এখন বাস্তবায়নের কারিগরি প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় বা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে। তা না হলে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নিয়ম শুধু নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রেই নয়, এনআইডি সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে যাঁরা পরিচয়পত্রে তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাঁদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে গিয়ে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের চাপ কমবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়েও আবেদন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা বন্ধ হবে, যা নির্বাচন কার্যালয়গুলোর কাজের চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
এর ফলে আবেদনকারীদের জন্যও প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট হবে। অনলাইনে আবেদনের পর কত দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক দিতে হবে, তা জানা থাকলে অযথা আবেদন বাতিলের ঝামেলা এড়ানো যাবে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা ঠিক কত দিন হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা কারিগরি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ভোটার নিবন্ধনের পুরোনো নথিপত্র অপসারণেও উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২০১২ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত স্ক্যান করা ও সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২-এর কাগুজে কপি এবং কার্যালয়ের গুদামে থাকা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যেসব নথি ইতিমধ্যে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে, সেগুলোর কাগুজে কপি বছরের পর বছর কার্যালয় ও গুদামে জমে থাকায় জায়গা ও ব্যবস্থাপনা দুটোতেই চাপ তৈরি হচ্ছিল। সেসব সরিয়ে ফেললে কার্যালয়গুলোর সংরক্ষণ ব্যবস্থা হালকা হবে বলে মনে করছে কমিশন।
সব মিলিয়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনা আর পুরোনো নথির বোঝা কমানো — দুটো উদ্যোগই নির্বাচন কমিশনের সেবা ব্যবস্থাপনাকে আরও গোছানো করার চেষ্টার অংশ। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যাঁরা অনলাইনে আবেদন করবেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই আবেদন করতে হবে।




