সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ছুঁই ছুঁই ২০০, বাড়ছে উদ্বেগ
সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছুঁই ছুঁই করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এই সংখ্যা উঠে আসার পর জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একটি টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে এত প্রাণহানির খবরকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও।
খবরে মৃত্যুর সংখ্যা বলা হয়েছে হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া — দুই শ্রেণি মিলিয়ে। অর্থাৎ মৃতদের একটি অংশের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে বলে ধরা হচ্ছে, আর বাকিদের মৃত্যুকে হামের উপসর্গের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সম্মিলিত সংখ্যাটিই এখন ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দিয়ে এর শুরু হলেও শিশু ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক জটিলতার দিকে যেতে পারে। সিলেটে এভাবে মৃত্যু জমতে থাকার খবর তাই জনস্বাস্থ্যের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংখ্যাটি ২০০ ছুঁই ছুঁই — এই একটি তথ্যই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এক-দুটি বিচ্ছিন্ন মৃত্যু নয়, ক্রমে জমতে থাকা মৃত্যুর এই ধারা থামাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেটাই এখন এলাকার মানুষের প্রধান প্রশ্ন।
এই অবস্থায় আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় মৃত্যু ও আক্রান্তের খবর বেশি আসছে, সেখানে প্রতিরোধমূলক নজরদারি জোরদার করার দাবিও উঠছে।
সিলেট বিভাগের মানুষের জন্য এই খবর বিশেষ উদ্বেগের, কারণ সংখ্যাটি এখনো বাড়ছে কি না বা নতুন করে কোথায় কোথায় আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে — এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসা বাকি আছে। স্থানীয় খবরে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কথাই বারবার উঠে আসছে।
টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এমন প্রাণহানি ঘটলে টিকাদান কর্মসূচির পৌঁছানো নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। কোনো শিশু বা কোনো এলাকা টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন সচেতন মহল।
পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা নির্ভর করবে এখন নেওয়া উদ্যোগের ওপর। মৃত্যুর সংখ্যা ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছানোর খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও পরবর্তী তথ্যের দিকে নজর থাকবে সিলেটজুড়ে মানুষের।




