…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
শিক্ষা

বিদ্যমান আইনেই হবে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতায় বাধা নেই: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটির জবাব মিলেছে: আইন সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই তফসিল ঘোষণা হবে, এবং সে ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রার্থী হতে আপাতত কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, আর নির্বাচন কমিশনও একই অবস্থানের কথা বলছে।

ফলে আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে। এই একটি সিদ্ধান্তের ওপর হাজার হাজার শিক্ষকের নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ নির্ভর করছে, কারণ তাঁদের অনেকেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন কমিশন নিজেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে আইন সংশোধন হয়ে গেলে শিক্ষকদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সুযোগটি এখন খোলা থাকলেও তার ওপর ঝুলে আছে সংশোধনের অনিশ্চয়তা।

আইন সংশোধনের জন্য কমিশন আরও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি তাদের জামিনদারদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা। কোনো প্রস্তাবই এখনো কার্যকর হয়নি, ফলে প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণের ভিত্তি আপাতত বিদ্যমান আইনই।

শিক্ষকদের অযোগ্য করার প্রস্তাবের পেছনে কমিশনের যুক্তি স্পষ্ট। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারি আর্থিক সুবিধা পান। তাঁদের জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিলে একই সময়ে দুটি দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছে কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন যে আইন কার্যকর থাকবে, সেই আইন অনুযায়ীই প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। তাঁর বক্তব্য, আইন পরিবর্তন করতে হলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই তা করতে হবে। একই নির্বাচনে এক এলাকায় শিক্ষকের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে, অন্য এলাকায় থাকবে না, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে না।

সরকারের ভেতর থেকেও এসেছে ব্যাখ্যা। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার বিষয়টি স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার আলোকে বিবেচনা করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এ একই সময়ে একাধিক পদ বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আইনগত বা নীতিগত বাধা নেই বলেও মত এসেছে।

ভোটের দিনক্ষণও এখন অনেকটাই পরিষ্কার। চলতি মাসের শুরুতে কমিশন সভায় পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এর আগে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে ধাপ কমিয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, এ ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তফসিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন তিনি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন, সাধারণত ভোটের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঈদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও বিশ্ব ইজতেমাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সানাউল্লাহ।

এরই মধ্যে প্রার্থীদের জন্য আর্থিক বিধানে বড় বদল এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ এবং সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা দ্বিগুণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে জামানত দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা, আর সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানত পাঁচ হাজার টাকা। আগে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ছিল পাঁচ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর এক হাজার টাকা।

ব্যয়ের সীমাতেও এসেছে পরিবর্তন। নতুন বিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও এক লাখ টাকা।

জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তও কঠোর হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থীকে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেতে হবে, এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আগে জামানত বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট পাওয়ার শর্ত ছিল, নতুন বিধানে সেই সীমা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ছবিটি দ্বিমুখী। একদিকে পাঁচ ধাপের ভোটের সূচি, বাড়তি জামানত ও ব্যয়সীমা নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগোচ্ছে বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে। অন্যদিকে শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে কমিশনের নিজের সংশোধন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। তফসিলের আগেই সেই প্রস্তাব আইনে রূপ নিলে বদলে যাবে হিসাব, আর না নিলে বিদ্যমান আইনেই মাঠে নামতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা। এখন সবার নজর সেই সিদ্ধান্তের দিকেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস: মাদারীপুর থেকে সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার, জব্দ দুটি স্মার্টফোন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে সোহাগ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ ত…

শিক্ষা

পাবনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নে বড় অগ্রগতি: আটঘরিয়া কলেজ রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইউজিসিকে নির্দেশ

পাবনায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। জেলার আটঘরিয়া কৃষি মহাবিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যা…

শিক্ষা

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের মামলায় এবার গ্রেপ্তার কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও একজন সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ…

শিক্ষা

উচ্চশিক্ষায় ৩৪ বছর পূর্ণ করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ২,৩১৮ কলেজে পড়ছেন প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী

উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও কলেজ শিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার, ২১ অক্…