বোর্নিওর পালংকারায়ায় সপ্তাহজুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়াশা, কাশি আর অনলাইন ক্লাসে নাকাল বাসিন্দারা
ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের শহর পালংকারায়ার আকাশ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ঢেকে আছে ঘন ধোঁয়াশায়। বন আগুন থেকে তৈরি এই বিষাক্ত কুয়াশা শহরবাসীর স্বাস্থ্য, আয়-রোজগার আর পড়াশোনা—তিন দিক থেকেই জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
২৯ বছর বয়সী গৃহিণী সিফরার অভিজ্ঞতা এই সংকটের সবচেয়ে পরিচিত চিত্র। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে তিনি, তার স্বামী ও সন্তানরা টানা কাশিতে ভুগছেন। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়া ঢুকে পড়ায় পরিবারের কেউই স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না।
রাস্তার ধারের বিক্রেতাদের আয়েও ধোঁয়াশার সরাসরি আঘাত লেগেছে। ৪০ বছর বয়সী হকার মেলসি জানান, ধোঁয়াশা শুরু হওয়ার পর থেকে তার বিক্রি তীব্রভাবে কমে গেছে, অথচ জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। কান্না চেপে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে সবকিছুই খুব খারাপ হয়ে গেছে; তার একটাই আশা—ধোঁয়া কেটে যাক আর ব্যবসা আগের মতো স্বাভাবিক হোক।
শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিস্থিতি কম কঠিন নয়। ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্রী নোভিতা জানান, তীব্র কাশির কারণে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় পুরো একটি সেমিস্টার ধরেই চলছে অনলাইন পাঠদান, ফলে ক্লাসরুমের স্বাভাবিক শিক্ষা থেকে তিনি ও তার সহপাঠীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাসিন্দাদের বর্ণনায় স্পষ্ট, ধোঁয়াশা এখন আর কেবল আবহাওয়ার খবর নয়; এটি প্রতিদিনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। ঘরের ভেতরে ধোঁয়া ঢুকে পড়া মানে শিশু ও বয়স্কসহ পুরো পরিবারের জন্যই বিশ্রামের জায়গাটুকুও আর নিরাপদ থাকছে না।
আয়ের দিক থেকে ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা। ক্রেতা কমে যাওয়া আর পণ্যের দাম বাড়ার দ্বিমুখী চাপে ছোট বিক্রেতাদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে, যেমনটা মেলসির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘ অনলাইন পাঠদান মানে শ্রেণিকক্ষের বাইরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, যেখানে অসুস্থতা সেই চেষ্টাকেও ব্যাহত করছে। নোভিতার মতো শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কাশি আর শ্বাসকষ্টের সঙ্গে লড়াই করেই পড়া চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
পালংকারায়ার এই চিত্র বোর্নিওর বন আগুনের মৌসুমি সংকটেরই অংশ, যেখানে আগুনের ধোঁয়া বাতাসে ভেসে শহরাঞ্চলের জনজীবন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বাসিন্দাদের কাছে এবারের ধোঁয়াশা টানা সপ্তাহজুড়ে স্থায়ী হওয়াতেই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়েছে।
স্বাস্থ্য, আয় আর শিক্ষা—তিনটি ক্ষেত্র একসঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় শহরটির স্বাভাবিক ছন্দই ভেঙে পড়েছে। বাইরে বের হওয়া কিংবা ঘরে থাকা, কোনোটাতেই মিলছে না স্বস্তি।
বাসিন্দাদের এখন একটাই প্রত্যাশা—বন আগুনের ধোঁয়া থেমে আকাশ পরিষ্কার হোক, যাতে শিশুরা আবার নিশ্বাস নিতে পারে, বিক্রেতারা কাজে ফিরতে পারেন আর শিক্ষার্থীরা ফিরতে পারে শ্রেণিকক্ষে। সেই অপেক্ষা কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।






