গর্ভপাত বৈধ করার বিলে ভেটো দিলেন লিখটেনস্টাইনের যুবরাজ, হতাশ প্রচারকেরা
লিখটেনস্টাইনের যুবরাজ আলোইস গর্ভপাত বৈধ করার একটি বিলে ভেটো দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেওয়া এই ভেটোর ফলে নাগরিকদের উদ্যোগে আনা এবং পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রস্তাবটি আটকে গেল।
বিলটিতে গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাতকে বৈধ করার প্রস্তাব ছিল। আলপাইন এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটিতে বর্তমানে গর্ভপাত করা অবৈধ, যেখানে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এর সুযোগ নেই।
বর্তমান নিয়মে কেবল গর্ভাবস্থা যদি গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে অথবা তা যৌন নিপীড়নের ফল হয়, তাহলেই গর্ভপাতের সুযোগ থাকে। গর্ভপাত করাতে চাওয়া নারীদের সাধারণত প্রতিবেশী অস্ট্রিয়া বা সুইজারল্যান্ডের ক্লিনিকে যেতে হয়, যা প্রচারকদের মতে প্রক্রিয়াটিতে অনিশ্চয়তা ও অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বোঝা যোগ করে।
বিলটি এনেছিল ‘ফ্রিস্টেনলোজুং’ নামের নাগরিক উদ্যোগ, যারা প্রায় ৫ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিল—যা দেশটির নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। প্রস্তাবে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাতকে অপরাধমুক্ত করা এবং গর্ভপাত সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ছিল।
রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিলটি ‘কেন্দ্রীয় আইনি স্বার্থ হিসেবে অনাগত প্রাণকে যথাযথভাবে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়’। আলোইস গত জুন মাসেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই যুক্তিতেই তিনি প্রস্তাবটিতে ভেটো দেবেন।
উদ্যোগটির প্রচারক এবং প্রগতিশীল বিরোধী দল ফ্রি লিস্টের সহ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাতিয়ানা আস’আদ বলেছেন, ‘আমরা হতাশ, তবে সত্যিই বিস্মিত নই। পরিষ্কার ছিল, জুন মাসেই তাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা তা বদলাতে পারতাম না।’
আস’আদ জানান, মঙ্গলবার সকালে প্রচারকেরা আলোইসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কিন্তু তখন এর কোনো ইঙ্গিত পাননি যে এর কিছুক্ষণ পরই তিনি ভেটোর ঘোষণা দেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হতাশ, কারণ মনে হচ্ছে জুনের পর থেকে আমরা যা কিছু করেছি, সবই ছিল লোকদেখানো।’
প্রায় ৪০ হাজার মানুষের দেশ লিখটেনস্টাইনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ব্যতিক্রমী—গণভোটনির্ভর প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সঙ্গে সেখানে এমন রাজতন্ত্র যুক্ত, যেখানে শাসক যুবরাজের হাতে ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। আলোইসের নিরঙ্কুশ ভেটো ক্ষমতাটি নিজেই ২০১২ সালের এক গণভোটে নিশ্চিত হয়েছিল। গর্ভপাত বিলটি আটকাতে তিনি সেই ক্ষমতা প্রথমবারের মতো ব্যবহার করলেন।
আস’আদের ভাষায়, গণতন্ত্র ও রাজতন্ত্রের মধ্যকার ‘দ্বৈতবাদের প্রতিশ্রুতি’, যার ওপর লিখটেনস্টাইনের মানুষ আস্থা রেখেছিল, তাতে ‘কিছু ফাটল ধরেছে’।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্ট গণভোটের ডাক না দিয়ে বিলটি পাস করে সরাসরি আলোইসের সম্মতির জন্য পাঠিয়ে দেওয়ায় যুবরাজ তাঁর জনগণের সঙ্গে ‘সংঘাত’ থেকে রেহাই পেয়েছেন।
প্রচারকদের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে আস’আদ উল্লেখ করেন লিখটেনস্টাইন সরকারের একটি স্পষ্টীকরণ—গর্ভপাত সম্পর্কে ‘তথ্য’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাটি কার্যত এই চর্চার ‘বিজ্ঞাপন’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সবকিছু আগের মতোই থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা এখনো এখানেই আছেন। পক্ষে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে এবং তা এখনো আছে। গর্ভপাত হতেই থাকবে, আলোইস শুধু ঠিক করে দিলেন সেগুলো কোথায় হবে।’ লিখটেনস্টাইনের রাজপরিবার এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।




