শেরপুরে জমির বিরোধে শ্রমিকদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, জানাজার আগে লাশ উদ্ধার করল পুলিশ
শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কিল-ঘুষিতে মো. সোলাইমান মিয়া (৫৫) নামে এক শ্রমিকদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত সোলাইমান মিয়া খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নেতা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এর আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার খড়িয়াকাজির ইউনিয়নের মধ্যলংগরপাড়া এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে সোলাইমান মিয়া নিজের জমিতে সীমানা খুঁটি পোঁততে যান। এ সময় জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের আলাউদ্দিন, বাচ্চু মিয়া ও পিয়ারা বেগমসহ আরও পাঁচ-ছয়জন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং বুকের মধ্যে কিল-ঘুষি মারেন। আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি বাড়ি ফিরে আসেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।
ঘটনার পর বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধে কিল-ঘুষিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাঁর লাশ উদ্ধার করে। বুধবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়।
নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁর ছেলে শ্রীবরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের লোকজন পথে তাঁকে বাধা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে গোপনে আপস-মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম জানান, হত্যা করা হয়েছে—এমন মৌখিক অভিযোগ আসার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
ওসি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে প্রাণহানির এই অভিযোগ এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি; তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



