বৃহস্পতিবার সিলেটের কয়েকটি এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের কয়েকটি এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বুধবার সিলেটের একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম একযোগে এই খবর জানিয়েছে, ফলে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনের বড় একটি অংশজুড়েই এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলবে—টানা ৯ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ থাকবে না নির্ধারিত এলাকাগুলোতে। সিলেট নগরী ও আশপাশের কয়েকটি এলাকা এই সূচির আওতায় পড়ছে বলে জানা গেছে।
টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা মানে দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন। বাসাবাড়িতে পানির পাম্প, ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসা ও অফিসের কাজ—সবখানেই এর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দিনের বেলার এই দীর্ঘ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়বেন গৃহস্থালি ও কর্মজীবী মানুষজন।
এমন ঘোষণা আগেভাগে আসায় বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। মোবাইল ফোন ও জরুরি ডিভাইস চার্জ করে রাখা, প্রয়োজনের পানি আগে থেকে সংরক্ষণ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় সেরে ফেলার পরামর্শ দেন অভিজ্ঞরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে।
সিলেটে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা কারণে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা আসে। এসব ক্ষেত্রে কোন কোন এলাকা কখন বিদ্যুৎ পাবে না, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমানো যায়। এবারের ঘোষণাও সেই ধারাবাহিকতায় এসেছে।
ব্যবসায়ীদের জন্যও বৃহস্পতিবারটি হবে হিসাব করে চলার দিন। দোকানপাট, ওয়ার্কশপ ও ছোট কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎনির্ভর কাজের সূচি বদলাতে হতে পারে। আগাম খবর পাওয়ায় অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবতে পারবেন।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও এই ৯ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন ক্লাস, পড়াশোনা কিংবা জরুরি আবেদনের কাজ যাদের বৃহস্পতিবার করার কথা, তাদের সূচি এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়তি সতর্কতার বিষয়। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন এমন পরিবারগুলোকে আগাম বিকল্প ব্যবস্থা রাখার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এমন খবর সিলেট বিভাগের বাসিন্দাদের কাছে নতুন নয়। তবে টানা ৯ ঘণ্টার দৈর্ঘ্য এই বিভ্রাটকে সাধারণের চেয়ে বড় করে তুলেছে, ফলে প্রস্তুতির প্রয়োজনটাও বেশি।
বৃহস্পতিবারের এই সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা। বাসিন্দারা এখন সেই অনুযায়ী দিনের পরিকল্পনা সাজিয়ে নিচ্ছেন।


