কক্সবাজার সৈকতে সম্প্রীতির মিলনমেলা: বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব, জেলায় পূজা ৩২৪ মণ্ডপে
ঢাকঢোলের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। কারও হাতে প্রতিমা, কারও কণ্ঠে বিদায়ের সুর।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সৈকতপাড় পরিণত হয় সম্প্রীতির মিলনমেলায়। আনন্দ, আবেগ আর উৎসবের আবহে বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এর আগে মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে কক্সবাজারের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করেন।
সন্ধ্যা আরতি শেষে শুরু হয় বিদায়ের আবহ। পরের দিন দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসব।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত বিসর্জন-পূর্ব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আজকের সম্প্রীতির বন্ধন তারই প্রমাণ। তার ভাষায়, বর্তমান সরকারের আমলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন।
বিসর্জন ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড, দমকল ও লাইফগার্ডদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের শেষ দিনটি পরিণত হয় সার্বজনীন উৎসবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ পর্যটকরাও অংশ নেন এই বর্ণিল আয়োজনে।
রামু থেকে আসা সঞ্জয় শর্মা বলেন, মা দুর্গা দুর্গতি নাশ ও অসুর বিনাশের প্রতীক। তারা প্রার্থনা করেছেন, মানুষের অশুভ প্রবৃত্তি ও সমাজের অশান্তি দূর হোক এবং দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। উখিয়া থেকে আসা কণিকা রাণী ধর সবার সুখ-শান্তিতে জীবনযাপনের মঙ্গল কামনা করেন।
এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৯টি মণ্ডপে ঘটপূজা এবং ১৫৫টিতে প্রতিমাপূজা হয়েছে। রামুতে ৩৭টি, চকরিয়ায় ৭১টি, কুতুবদিয়ায় ৪৪টি ও কক্সবাজার সদরে ৩১টি মণ্ডপ ছিল।
শারদীয় দুর্গাপূজা গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী ও মহানবমী শেষে বুধবার পালিত হয় বিজয়া দশমী। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জানান, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।




