ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বাংলাদেশের বিদায়: ১৬০ রান করেও সমীকরণে হার, ফাইনালে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নির্ণায়ক সমীকরণের ম্যাচে টাইগারদের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে, আর ফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশকে এই ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অন্তত ৪১ রানে জিততে হতো। সেই সমীকরণই ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে তাড়া করেছে।
আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ তুলেছিল ১৬০ রান। ফলে ফাইনালের সমীকরণ পূরণ করতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানে আটকে রাখতে হতো।
বোলিংয়ের শুরুতে সেই সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন তাসকিন আহমেদ। তার আঘাতে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় আফগানিস্তান, আর বাংলাদেশ শিবিরে আশার আলো দেখা দেয়।
কিন্তু এরপর ইনিংস সামলে নেন আফগানিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরান। ক্রিজে জমে যাওয়া এই দুজনের জুটি ভাঙাই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচ যত এগিয়েছে, বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ তত কঠিন হয়েছে। আফগানিস্তানের স্কোর ১৮ ওভারে ২ উইকেটে ৮০ রানে পৌঁছালে চাপ আরও বাড়ে বাংলাদেশের ওপর।
দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে প্রয়োজন ছিল, সেটি পূরণ করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। জুটি ভাঙতে না পারার খেসারতই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে।
রহমত ও ইব্রাহিমের জুটি জমে যাওয়ায় আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর লক্ষ্য পূরণ করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ১১৯ রানের সীমার মধ্যে তাদের আটকে রাখার সমীকরণ ক্রমেই দূরে সরে যায়।
শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণ আর মেলেনি। বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের দুই দলও চূড়ান্ত হয়ে যায়।
ফাইনালে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ শেষ হলো ফাইনালের আগেই, হাতে থাকা সমীকরণ কাজে লাগাতে না পারার হতাশা নিয়ে।
১৬০ রানের পুঁজি নিয়েও কেন বোলাররা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে জুটি ভাঙতে পারলেন না, সেই প্রশ্নই এখন বাংলাদেশ শিবিরের সামনে সবচেয়ে বড় হয়ে থাকবে।
সমর্থকদের জন্য এই বিদায় বিশেষভাবে হতাশাজনক, কারণ ম্যাচের শুরুতেই তাসকিনের আঘাতে ফাইনালের সম্ভাবনা সত্যিকারের মতোই জেগে উঠেছিল। সেই আশা ধরে রাখতে না পারাই এই ম্যাচের গল্প।




