ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর আর চিকিৎসা লাগবে না, জানালেন চিকিৎসকেরা
ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর আর কোনো অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসকেরা। ভ্যাটিকানের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ক্যাথলিক বিশ্বের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই খবর তাঁর অনুসারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।
বিবৃতিতে চিকিৎসক ডা. লুইজি কারবোনে ও অধ্যাপক স্তেফানো মার্গারিতোরা বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে টিউমারটি ছিল একটি পালমোনারি অ্যাডেনোকার্সিনোমা। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি ধরন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোগটি একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে পরীক্ষায় ধরা পড়েছে।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে মূল্যায়ন করানো হয়েছে। সেই অনকোলজিক্যাল মূল্যায়নেও নিশ্চিত হয়েছে যে পোপের আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই আক্রান্ত অংশের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
একজন পোপের স্বাস্থ্য সবসময়ই বিশ্বজুড়ে গভীর আগ্রহের বিষয়। পোপ শুধু ক্যাথলিক চার্চের প্রধানই নন, ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রপ্রধানও। তাই তাঁর অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের খবর এলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ার পর পোপের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। চিকিৎসকদের এই বিবৃতি সেই জল্পনার অনেকটাই অবসান ঘটাল, কারণ এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রোগ ছড়িয়ে পড়েনি এবং বাড়তি চিকিৎসার দরকার নেই।
‘রোগটি স্থানীয়ভাবে সীমাবদ্ধ ছিল’—চিকিৎসকদের এই বক্তব্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে না পড়লে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা নির্মূল করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। পোপের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল ঠিক সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে।
ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে দুই চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণত পোপের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ তথ্যের ক্ষেত্রেই করা হয়। ডা. লুইজি কারবোনে ও অধ্যাপক স্তেফানো মার্গারিতোরা যৌথভাবে এই মূল্যায়নের কথা জানিয়েছেন।
তবে এই খবরটি এখনো বিকাশমান। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোপের দৈনন্দিন কর্মসূচি ও জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো ঘোষণা এলে তা থেকেও তাঁর সেরে ওঠার অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের কাছে পোপের সুস্থতা ফিরে পাওয়ার খবর বিশেষ অর্থ বহন করে। চিকিৎসকদের ইতিবাচক বার্তার পর ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ফুসফুসের ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের অস্ত্রোপচারের পর ‘আর চিকিৎসা লাগবে না’—চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্ত পোপ লিওর জন্য সবচেয়ে ভালো ফলাফলগুলোর একটি। ভ্যাটিকানের পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যের দিকে এখন সবার নজর থাকবে।




