সানস্ক্রিন ট্যাবলেট কি সত্যিই ট্যান আটকায়? ক্রিমের বিকল্প নিয়ে যা জানা জরুরি
পূজার ছুটিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্যান্ডেলে ঘোরা, রোদে দাঁড়িয়ে ঠাকুর দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানো—উৎসবের মৌসুমে রোদ এড়ানো বেশ কঠিন। ফলে ত্বকে ট্যান পড়া, রোদে পোড়া কিংবা ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারানোর ভয় থাকে অনেকেরই।
এদিকে বারবার সানস্ক্রিন মাখার ঝামেলা এড়াতে সমাজমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই কিনছেন ‘সানস্ক্রিন ট্যাবলেট’। দাবি করা হচ্ছে, একটি ট্যাবলেট খেলেই নাকি ভেতর থেকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা মিলবে। কিন্তু সত্যিই কি এই ট্যাবলেট সানস্ক্রিন ক্রিমের বিকল্প হতে পারে—সেই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে।
বাজারে ‘সানস্ক্রিন পিল’ বা ‘ওরাল সানস্ক্রিন’ নামে বিক্রি হওয়া অনেক পণ্যে বিভিন্ন ভিটামিন, উদ্ভিজ্জ নির্যাস ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর দাবি, এই উপাদানগুলো শরীরের ভেতর থেকে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
তবে কোনো পণ্যে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকলেই সেটি সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেয়, এমন নয়। নির্দিষ্ট উপাদান নিয়ে কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাজারে বিক্রি হওয়া সব সানস্ক্রিন ট্যাবলেটের কার্যকারিতা সমানভাবে প্রমাণিত নয়।
তাই বিজ্ঞাপনে ‘এসপিএফ’ বা সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষার দাবি দেখেই সেগুলোকে ত্বকের সুরক্ষার নির্ভরযোগ্য উপায় ভাবা ঠিক নয়। বিজ্ঞাপনের দাবি আর প্রমাণিত কার্যকারিতা এক জিনিস নয়—এই পার্থক্যটাই ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মুখে খাওয়ার কোনো সাপ্লিমেন্টই সাধারণ সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশনের বিকল্প নয়। ত্বকে লাগানোর সানস্ক্রিন সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির বিরুদ্ধে সরাসরি সুরক্ষা তৈরি করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মুখে খাওয়ার সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার উপাদান, মাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার প্রমাণের ওপর।
প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন বা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সাপ্লিমেন্ট খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু উপাদান নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়াও ঘটাতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু ট্যান আটকানোর আশায় এ ধরনের ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়।
আসলে রোদ থেকে ত্বক বাঁচানোর প্রমাণিত নিয়মগুলোই বেশি কাজের। বাইরে বেরোনোর প্রায় ১৫ মিনিট আগে বিস্তৃত বর্ণালির (ব্রড-স্পেকট্রাম) এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন লাগান। এটি ইউভিএ ও ইউভিবি—দুই ধরনের অতিবেগনি রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর সানস্ক্রিন নতুন করে লাগান। ঘাম হলে, সাঁতার কাটলে বা মুখ ধুলে আরও আগে লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি পণ্যের নির্দেশনাও মেনে চলুন।
শুধু সানস্ক্রিনের ওপর নির্ভর না করে ছাতা ব্যবহার করুন, ছায়ায় থাকার চেষ্টা করুন এবং মুখ ও ঘাড় ঢাকে এমন টুপি পরুন। এসব অভ্যাস মিলিয়েই ত্বকের সুরক্ষা সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত হয়।
অতিবেগনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার জন্য ইউভি-প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এতে চোখের আশপাশের সংবেদনশীল ত্বকও কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারে।
সানস্ক্রিন ব্যবহারে জ্বালা, চুলকানি বা র্যাশ হলে পণ্যটির ব্যবহার বন্ধ করে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বারবার সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
সানস্ক্রিন ট্যাবলেটের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এগুলোকে রোদে ত্বক পোড়া বা ট্যান আটকানোর নিশ্চিত উপায় ভাবার কারণ নেই। পূজার সাজে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে চাইলে শুধু একটি ট্যাবলেটের ওপর ভরসা না করে নিয়মিত ও সঠিকভাবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কোনো সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে তার উপাদান ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জেনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


