নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: সন্দেহভাজন আসামি গ্রেফতার, পলাতকদের খোঁজে অভিযান চলছে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ হত্যা মামলায় এক সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। গ্রেফতার আশিকুর রহমান প্রাঙ্গনের বয়স ২১ বছর। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মু. মাসুদ রানা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেফতার প্রাঙ্গন দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকার শাহিন মিয়ার ছেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি একাধিক হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত শুটার শামীমের ভাগনে। এই পরিচয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে স্থানীয় একটি মনিহারি দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরছিলেন আলিফ। পথে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করে।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এসআরবি-১৪ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা ছায়াতদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য কার্যক্রম চালানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতের অভিযানে প্রাঙ্গনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ হত্যা মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
গ্রেফতার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও বাকি জড়িতদের বিষয়ে তথ্য মিলতে পারে বলে আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা নিয়ে নিহত সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর সঙ্গে হত্যার কোনো যোগ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। সহকর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দ্রুত সব আসামি গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
পরবর্তী ধাপে গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে এবং পলাতকদের ধরতে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৪। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



