সৌদি আরবে ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসী নিহত, উপসাগরজুড়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
সৌদি আরবে ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। পাওয়া তথ্যে এই মৃত্যুর খবর জানা গেলেও নিহতদের নাম, পরিচয় ও তাঁরা কোন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট বিভাগসহ বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করেন। ফলে সেখানে কোনো হামলা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেই দেশে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এবারের ঘটনাতেও প্রবাসী পরিবারগুলো নিহতদের পরিচয় জানতে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন।
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরবকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে শত্রুতামূলক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হুথিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এসব হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি ঘটেছে এবং ভ্রমণে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে অবস্থিত তার মিশন থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পিগট বলেছেন, দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও বুধবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা, যার মধ্যে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলাও রয়েছে, তার পর হুথিদের পক্ষ থেকে আরও হামলার আশঙ্কার কথা সতর্কতায় বলা হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত একটি সিআইএ স্টেশন ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল। সে সময় ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে হামলা শুরু করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, উপসাগরের অন্যান্য দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোও পরিবারের সদস্যদের সরে যেতে নির্দেশ দেবে। তবে পিগট বলেছেন, উপসাগরজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মী সরানোর পরিকল্পনা নিয়ে আগের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সঠিক নয়।
ইয়েমেনে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার পরই সর্বশেষ এই সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাতের আরেকটি front খুলে গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং উপসাগরীয় অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত জানা গেলে তাঁদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানো সহজ হবে।
আপাতত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার দিকেই সবার দৃষ্টি। একই সঙ্গে হুথি হামলা আরও বাড়ে কি না এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীদের জন্য নতুন কোনো সতর্কতা আসে কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।


