শনিবারের বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মাকরোঁ, ফ্রান্সে অস্থিরতা নিয়ে সতর্ক এশিয়ার দেশগুলোও
ফ্রান্সের শহরগুলোতে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাকরোঁ। উপসাগরীয় সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়ে বসছেন, কীভাবে শনিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভের দিন রাস্তায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায় তা ঠিক করতে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সাংবাদিকদের মাকরোঁ বলেছিলেন, সরকারকে স্থির থাকতে হবে — মনোবল ধরে রাখতে হবে। বৈঠকের পর তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যেদিকে নজর থাকবে সবার।
একই দিনে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে পুলিশি ব্যবস্থা ও আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারসহ দলগুলোর উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রভাব পড়ছে দেশটির বাইরেও। ইউরোপের বিভিন্ন অংশে অস্থিরতার কারণে থাইল্যান্ড তার নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
ইতালি সফরের সময় থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুংকেতকেও বুধবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, যারা থাইল্যান্ড থেকে ইউরোপে যাচ্ছেন, তাদের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে; ফ্রান্স এখনো উদ্বেগের জায়গা, কারণ সেখানে পরিস্থিতি এখনো চলমান।
তিনি ইতালির বিক্ষোভ নিয়েও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, অস্থিরতা নিয়ে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকের কারণে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাতিল করতে হয়েছে। স্পেন নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন না হলে এসব দেশে ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখাই ভালো।
প্যারিসে মালয়েশিয়ার দূতাবাস রোববারই ফ্রান্সে থাকা মালয়েশীয়দের সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছিল বিক্ষোভের কারণে। আর সপ্তাহান্তে টাউন হল ও দোকান লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সোমবার চীনও ফ্রান্সে ভ্রমণরত নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানায় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে।
ইউরোপের এই অস্থিরতার মধ্যেই ইতালি ও স্পেন সেউটা সীমান্ত সংকটের পর চালু করা পারস্পরিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌহার্দ্যপূর্ণ টেলিফোন আলাপে একমত হয়েছেন যে কার্যকর শেনজেন স্থগিতের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সতর্কভাবে বিশ্লেষণের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শেনজেন অভিন্ন এলাকার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্য বিনিময় জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাও থামার লক্ষণ নেই। রাতে ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো ও কিয়েভে ব্যাপক হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সন্ধ্যা থেকে কিয়েভে তিন দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে — মোট ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র; আবাসিক ভবন, জ্বালানি স্থাপনা, রেলস্টেশন ও মেট্রোর অবকাঠামো, শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমনকি একটি মঠও ক্ষতির শিকার হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, কিয়েভে অন্তত দুজন নিহত ও পাঁচ শিশুসহ ৩৪ জন আহত হয়েছেন এবং ইউক্রেনের বারোটি অঞ্চল রাতের হামলার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনার আরেক দফা শেষের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রাশিয়া সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে — অর্থাৎ মনোভাবে আসলে কোনো বদল হয়নি; যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর আসল চাপ দরকার।
সব মিলিয়ে ইউরোপ জুড়ে এখন একযোগে চলছে বিক্ষোভ, অস্থিরতা ও যুদ্ধের চাপ। ফ্রান্সে শনিবারের বিক্ষোভ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে এবং মাকরোঁ প্রশাসন পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।




