দক্ষিণ কোরিয়ার গাংহোয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের প্রস্তাব, মেয়রের ইতিবাচক সাড়া
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি মৌসুমি কর্মী পাঠানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির ইনচেওন শহরের গাংহোয়া কাউন্টির মেয়র পার্ক ইয়ং-চোওলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর, আর বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর প্রস্তাবে মেয়র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার গাংহোয়ায় মেয়রের কার্যালয়ে। বৃহস্পতিবার গণঅধিকার পরিষদের মিডিয়া সেল এই বৈঠকের তথ্য জানিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল গাংহোয়া অঞ্চলে কৃষি ও অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের যোগ্য ও দক্ষ মৌসুমি কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনা ও প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বৈঠকে কোরিয়া সরকার এবং গাংহোয়া কাউন্টি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর্মঠ ও পরিশ্রমী জনশক্তি কোরিয়ার স্থানীয় কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে মেয়র পার্ক ইয়ং-চোওল বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। গাংহোয়ায় মৌসুমি কর্মী হিসেবে বাংলাদেশিদের যুক্ত করার বিষয়ে তিনি ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়।
আলোচনায় ই-৮ বা সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির অধীনে মৌসুমি কর্মসংস্থান ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা হয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মী বিনিময়ের প্রশাসনিক বিষয়গুলো সহজ করার ওপর দুই পক্ষই জোর দিয়েছেন।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্ত করতে ভবিষ্যতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এই সমঝোতাই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান অর্থনীতির একটি বড় স্তম্ভ। নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চলে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে একদিকে যেমন কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য পথ খোলে, অন্যদিকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও থাকে।
মৌসুমি কর্মী ব্যবস্থা সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমের কাজের চাহিদা মেটাতে চালু করা হয়, যেখানে কৃষিখাতের শ্রমঘাটতি একটি বড় কারণ। গাংহোয়ার মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় এই চাহিদা থাকায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের ফলে খুব দ্রুত গাংহোয়া কাউন্টিতে বাংলাদেশি মৌসুমি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলতে পারে। তা হলে তা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তবে এখনো এটি প্রস্তাব ও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। কবে, কতজন কর্মী, কোন প্রক্রিয়ায় যাবেন—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা এলে তবেই চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে। কর্মপ্রত্যাশীদের তাই সরকারি ঘোষণার দিকেই নজর রাখতে হবে।



