প্রত্যাশা ছাড়াল চীনের শিল্প উৎপাদন, সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ৫.৫ শতাংশ, প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন
বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে সেপ্টেম্বর মাসে চীনের শিল্প উৎপাদনে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে চীনের শিল্প উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
এর আগের মাস আগস্টে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ফলে এক মাসের ব্যবধানে গতি আরও বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা সেপ্টেম্বরের জন্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তবে প্রকৃত ফলাফল সেই প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক শিল্প উৎপাদনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ একক মাসের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বছরের সামগ্রিক চিত্রেও স্থিতিশীল অগ্রগতি ধরে রেখেছে চীনের শিল্প খাত।
খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ম্যানুফ্যাকচারিং বা সামগ্রিক উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশ। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ খাতে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং খনিজ নিষ্কাশন ও উৎপাদন খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শক্তিশালী অগ্রগতির কারণে কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাতে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৪ শতাংশে। শিল্প উৎপাদনের ভেতরে এই খাতটির গতি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি, যা চীনের প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের ওপর জোরের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চীনের গাড়ি তৈরির শিল্পে একটি মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশটিতে পরিবেশবান্ধব নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ি বা ইলেকট্রিক গাড়ির উৎপাদনে বড় উল্লম্ফন বজায় রয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ ধরনের আধুনিক গাড়ির উৎপাদন ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।
তবে নতুন প্রযুক্তির গাড়ি বাড়লেও সনাতন পদ্ধতির গাড়ি তৈরির হার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক গাড়ি শিল্পে পতন ঘটেছে। ফলে আলোচ্য মাসে চীনের মোট গাড়ি উৎপাদন ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩০ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে। অর্থাৎ একই খাতের ভেতরে নতুন প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে, আর পুরনো ধারার উৎপাদন পিছিয়ে পড়ছে।
শিল্প খাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ভোক্তাবাজারের তথ্যও প্রকাশ করেছে এনবিএস। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটিতে সামগ্রিক খুচরা বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ কোটি ইউয়ানে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি।
এ সময় দেশের সার্বিক পণ্য বিক্রি ১ শতাংশ বাড়লেও সাধারণ মানুষের কেনাকাটায় সেবা খাত এগিয়ে ছিল। ফলে খাদ্য ও হোটেল খাত বা ক্যাটারিং রাজস্বের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ভোক্তা ব্যয়ের ধরনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের তথ্য দেখাচ্ছে, চীনের শিল্প অর্থনীতি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যার প্রধান চালিকাশক্তি উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাত। একই সঙ্গে গাড়ি শিল্পের মিশ্র ফলাফল ও ভোক্তা ব্যয়ের ধীর গতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, এই অগ্রগতি সব খাতে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।
আগামী মাসগুলোতে এই গতি ধরে রাখা যায় কি না, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও নতুন জ্বালানির গাড়ির উল্লম্ফন সামগ্রিক উৎপাদনকে কতটা টেনে তুলতে পারে, সেদিকেই এখন বাজার বিশ্লেষকদের নজর থাকবে। এনবিএসের পরবর্তী মাসিক তথ্য প্রকাশ পেলেই সেই প্রশ্নের আরও স্পষ্ট উত্তর মিলবে।






