…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তারা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক ও তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদের মহড়াও বাড়িয়েছে। হামলার কৌশল অনুশীলনের জন্য তারা ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে।

নতুন হামলার বিষয়ে আলোচনা করতেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ সপ্তাহে ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বৈঠককে আসন্ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে থাকতে পারে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার। কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, আরও এক দফা বড় ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

তাদের ধারণা, এমন চাপের মুখে প্রায় আট মাস ধরে চলা সংঘাতের পর তেহরান কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে। অর্থাৎ সামরিক চাপকে আলোচনার টেবিলে সুবিধা পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চিন্তাই এখানে প্রধান।

তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার তীব্র হামলার চেয়ে বেশি সফল হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

প্রথম দফার সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করেছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতের ওপর পেন্টাগনের চাপ মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। চলতি বছর তিনি একাধিকবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পরিকল্পনায় ভেটো দিয়েছেন। চলতি মাসেও এমনটি ঘটেছে, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলা চালানোর জন্য প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।

অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলা চালালে এবার পাল্টা হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। আঞ্চলিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর বাইরে গিয়ে তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবলও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাদের বক্তব্য, এবারের লড়াই দ্রুত শেষ হবে না, আবার তা সীমিত পরিসরেও আটকে থাকবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম জড়ো করছে, যা নভেম্বরের শুরুর দিকে পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নিজেদের দাবিতে অগ্রগতি অর্জনের জন্য মার্কিন আলোচকেরা সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের হুমকিকে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের আলোচকেরা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হননি; তাদের অবস্থান হলো, আলোচনার পরবর্তী পর্যায়ে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মার্কিন পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, টানা তিন দিনের একটি তীব্র সামরিক অভিযান ইরানের অর্থনীতির এতটাই ক্ষতি করতে পারে যে দেশটি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগেও বারবার ইরানের পতনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। অন্যদিকে পশ্চিমা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছে।

বাইডেন প্রশাসনের সময় পেন্টাগনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নীতির শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডানা স্ট্রুল বলেন, ‘যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে বিষয়টি স্পষ্ট যে, এখন পর্যন্ত পরিচালিত সামরিক অভিযান, বর্তমানের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ কোনোটিই ইরানি সরকারকে অর্থবহভাবে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।’ বর্তমানে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসিতে কর্মরত স্ট্রুল বলেন, ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহু কেউই এখনো এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি, যা ব্যাখ্যা করে যে আরও যুদ্ধ কীভাবে এই কৌশলগত সংকটের সমাধান করবে, বিশেষ করে এমন এক অঞ্চলে যেখানে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। পরিকল্পনা তৈরি থাকলেও শেষ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে, আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে অনিশ্চয়তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

পুতিনকে ‘মানবতাবাদী’ বললেন ট্রাম্পের দূত উইটকফ, দুই দলেই সমালোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাস…

আমেরিকা

উচ্চক্ষমতার হাম পরীক্ষার অনুমোদন দিল না সিডিসি, পুনর্বিবেচনার আহ্বান চার রাজ্যের

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি উচ্চক্ষমতার একটি হাম পরীক্ষা পদ্ধতি যাচাই করে অনুমোদন দিতে অস্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটি কারণ হিস…

আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮০ কোটি ডলারের চিকিৎসা জালিয়াতি: হৃদ্‌রোগ সার্জনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোররাতে ফেডারেল অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয…

আমেরিকা

নিউইয়র্কে ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগে ডলার জেনারেলের ১৮ লাখ ডলারের বেশি সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডলার-স্টোর চেইন ডলার জেনারেল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বারবার বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ১৮ লা…