…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
জাতীয়

পুকুরের চাষের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, প্রথম গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার বাংলাদেশের মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, মাছ চাষের পুকুরে এসব কণা কীভাবে জমা হচ্ছে এবং মাছের মাধ্যমে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছ নিয়ে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা এটিই প্রথম। গবেষণাটি চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার: এভিডেন্স অব সেডিমেন্ট–ফিশ ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ইকোলজিক্যাল রিস্ক ইন বাংলাদেশ’।

গবেষণার মাঠপর্যায়ের কাজ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। এলাকাটি মিঠাপানির মাছ চাষের অন্যতম অঞ্চল; সেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের জন্য নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। গবেষকেরা শীতকালে নির্বাচিত ২৫টি মাছ চাষের খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।

সব কটি পুকুরের পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাছের নমুনাতেও মিলেছে এসব ক্ষুদ্র কণা। এ ফলাফল মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ চাষের পরও পুকুরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে প্রবেশ করছে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান। তিনি বলেন, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মাছ চাষের পুকুরের তলদেশের পলি ও মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা। পাশাপাশি মাছের দেহের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়নও ছিল গবেষণার অংশ।

গবেষণায় পুকুরের তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পলিতে দূষণের মাত্রা মূল্যায়নে ব্যবহৃত পলিউশন লোড ইনডেক্স বা দূষণভার সূচকের মান ছিল ১ থেকে ৪ দশমিক ৫। এ সূচকের ভিত্তিতে অধিকাংশ নমুনা সংগ্রহস্থলকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন গবেষকেরা।

মাছের ক্ষেত্রে চিত্রটিও কম উদ্বেগের নয়। গবেষকেরা ছয় প্রজাতির মোট ১৫০টি চাষের মাছ পরীক্ষা করেছেন। এসব মাছের নমুনায় মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতিটি মাছে গড় কণার সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৬০।

প্রজাতিভেদে কণা গ্রহণের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। সরপুঁটি মাছের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এ গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮। অন্যদিকে কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশ মাছের নমুনায় তুলনামূলক কম কণা পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মাছের বসবাসের স্তর বিবেচনায় তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মোট শনাক্ত কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে। তলদেশ ও পানির মধ্যবর্তী স্তরে চলাচলকারী মাছের ক্ষেত্রে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং পানির উপরিভাগের কাছাকাছি বসবাসকারী মাছের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ পলির কাছাকাছি থাকা মাছের দেহেই কণা জমছে সবচেয়ে বেশি — যা পলি থেকে মাছে কণা স্থানান্তরের ধারণাকেই জোর দেয়।

কীভাবে পুকুরে ঢুকছে এই কণা? অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘মাছকে প্রচুর ফিড খাওয়ানো হয়। সব ফিড যে খারাপ, তা বলছি না। তবে কিছু ফিডে এসব থাকে। অনেক সময় বন্যার পানিতে অন্য স্থানের মাইক্রোপ্লাস্টিক পুকুরে চলে আসে।’ গবেষকেরা মাছের পরিপাকতন্ত্রে মূলত এর উপস্থিতি দেখেছেন।

গবেষণায় পলিথিন (পিই) ও পলিপ্রপিলিন (পিপি) প্রধান মাইক্রোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। পলিথিন সাধারণত প্লাস্টিকের ব্যাগ, মোড়ক ও প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হয়। পলিপ্রপিলিন ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন পাত্র, প্যাকেজিং, দড়ি ও অন্য প্লাস্টিক পণ্যে।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহযোগী বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্যবিদ মাহবুবুর রহমান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। এটা কোথায় ফেলা হবে, এর কোনো সঠিক জায়গা নেই; প্রক্রিয়াজাত প্রায় হচ্ছেই না। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছ থেকে এটি মানুষের শরীরে পৌঁছাবে না — এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মাছে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত এ গবেষণা যে বার্তা দিল, তা হলো — প্লাস্টিক দূষণ এখন আর শুধু নদী-সমুদ্রের সমস্যা নয়, পুকুরে চাষ করা মাছের মধ্য দিয়েও তা খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ, ১৪৩ দেশের মধ্যে অবস্থান ১২৩তম

আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্…

জাতীয়

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রূপগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৈকুলী এলাকায় এই দ…

জাতীয়

আইএসপিআরের বিবরণে সাজেকের দিনভর ঘটনা: মানবঢালের অভিযোগ, ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি, হতাহত ছাড়াই উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সশস্ত্র গুলিবর্ষণের ঘটনায় আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে নিরাপদ…

জাতীয়

কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই, আশুগঞ্জে হবে দাফন

কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মার…