ইংল্যান্ডে শিশুদের চিকিৎসার অপেক্ষা ইতিহাসের অন্যতম তীব্র পর্যায়ে, সতর্ক করল তদারকি সংস্থা
ইংল্যান্ডে হাজার হাজার শিশু জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা এনএইচএসের ইতিহাসে অপেক্ষার সময়ের সবচেয়ে তীব্র বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কেয়ার কোয়ালিটি কমিশনের (সিকিউসি) বার্ষিক 'স্টেট অব কেয়ার' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমলেও শিশু ও তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবাতেই ৮০ হাজার শিশু ও তরুণ এক বছরের বেশি সময় ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় আছে—যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ। বিশেষজ্ঞরা এটিকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে বর্ণনা করেছেন।
সিকিউসি বলেছে, দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে শিশুদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে এবং পরে চিকিৎসা করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। চাহিদা দ্রুত বাড়লেও কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়া এই চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সব ক্ষেত্রেই অবশ্য একই চিত্র নয়। প্রতিবেদনে কিছু উন্নতির কথাও বলা হয়েছে—জিপি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বেড়েছে, ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বেড়েছে এবং ঐচ্ছিক চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা কিছুটা কমেছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবেশভিত্তিক মডেল ও সমন্বিত সেবা দলের মতো উদ্ভাবনের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।
কিন্তু সিকিউসির মূল্যায়ন হলো, এসব উন্নতি দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাসহ অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের প্রয়োজন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে পুরো স্বাস্থ্য ও সেবা ব্যবস্থাজুড়ে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কথাও বলা হয়েছে। মানুষ কোথায় থাকে এবং সে কে—তার ওপর নির্ভর করে সেবা পাওয়া, সেবার মান ও ফলাফলে 'অযৌক্তিক পার্থক্য' রয়ে গেছে বলে সিকিউসি জানিয়েছে।
কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ক্যানসার রোগী রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসা শুরু করতে অনেক দেরি করছেন, আর জরুরি ও আপৎকালীন সেবায় 'টেকসই চাপ' বজায় আছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও নির্দিষ্ট। চাহিদা বাড়লেও হেলথ ভিজিটর ও স্কুল নার্সের সংখ্যা 'কমতেই থাকছে' বলে সিকিউসি জানিয়েছে। কিছু এলাকায় ডায়াবেটিস ও হাঁপানির কারণে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির হার এবং কিছু এলাকায় শিশুদের দাঁত পচনের উচ্চ হার নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের ডা. রনি চেউং বলেছেন, কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতালের বাইরে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সহায়তার জন্য—যাদের জটিল অসুস্থতা, বিকাশজনিত সমস্যা ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজন আছে। অথচ এসব শিশুই এনএইচএসে সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের কমিউনিটি সেবার অপেক্ষা কমেছে।
ডা. চেউং বলেছেন, চারজনের মধ্যে একজনের বেশি শিশু এখনো এক বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকে—জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আরও অনেক শিশুকে অযথা ভুগতে হবে। তিনি বলেন, শিশুরা স্কুলে লড়াই করছে, পরিবারগুলো ভেঙে পড়ার পর্যায়ে যাচ্ছে এবং অপেক্ষার মধ্যে তাদের অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে।
সিকিউসির চেয়ার জুলিয়া নিউবার্গার বলেছেন, কিছু স্বাস্থ্য ও সেবা প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করলেও উন্নতি চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তিনি বলেন, 'ভেঙে পড়া একটি ব্যবস্থা মেরামত করতে হলে সম্মিলিত সাড়া দরকার।'
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ বলেছে, প্রতিবেদনটি দেখিয়ে দিয়েছে ২০২৪ সালে নির্বাচিত হয়ে আসা সরকার কী মাত্রার চ্যালেঞ্জ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সিকিউসি অপেক্ষার তালিকা, ক্যানসার সেবা ও সাধারণ চিকিৎসায় অগ্রগতির লক্ষণ স্বীকার করলেও রোগী ও পরিবারগুলো যৌক্তিকভাবেই দ্রুততর উন্নতি আশা করে—এ কারণেই মন্ত্রী করিডোরে চিকিৎসা বন্ধ করা, মা ও শিশুদের সহায়তা বদলে দেওয়া এবং নতুন জাতীয় সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।






