…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › ইউরোপ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ইউরোপ

গর্ভপাতের অধিকার চেয়ে পোল্যান্ডজুড়ে বিক্ষোভে হাজারো মানুষ, সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবাধ ও বৈধ গর্ভপাতের সুযোগের দাবিতে পোল্যান্ডের ২০টির বেশি শহর ও জনপদে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রায় সম্পূর্ণ গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা জারির ষষ্ঠ বার্ষিকীতে এই কর্মসূচি পালিত হয়, আর এতে অংশ নেওয়া মানুষের মূল ক্ষোভ ছিল ক্ষমতাসীন সরকারের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

বর্তমানে পোল্যান্ডে গর্ভপাত বৈধ কেবল দুটি ক্ষেত্রে — গর্ভধারণ যদি ধর্ষণ বা অজাচারের মতো অপরাধের ফল হয়, অথবা তা মায়ের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এর বাইরে কোনো নারী আইনি পথে গর্ভপাতের সেবা পান না, ফলে বহু নারীকে ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক পথের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সরকার ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয়ের আগে গর্ভপাত আইন উদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর জোটের ভেতরের মতভেদের কারণে সেই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে। প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার এই ব্যবধানই এবারের বিক্ষোভের প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের কয়েক দিন আগেই পার্লামেন্টে গর্ভপাতের বিধিনিষেধ শিথিল করার দুটি বিল পাস হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোস্কি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। ফলে আইন বদলের পথ আপাতত বন্ধই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।

ওয়ারশভিত্তিক প্রজনন অধিকার গোষ্ঠী অ্যাবরশন ড্রিম টিমের কর্মী জোফিয়া মার্চিনেক বলেছেন, পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনের এক বছর আগে এই বিল পাস করা প্রকৃত সংস্কারের চেষ্টা নয়, বরং এক ধরনের প্রতীকী ভঙ্গি। তাঁর ভাষ্য, উদার সরকার ভালো করেই জানে এই খসড়া আইন নাওরোস্কির ভেটো টিকবে না; তবু আগামী বছরের নির্বাচনে নারীদের সমর্থন দরকার বলেই তারা কিছু করছে — এমন ধারণা তৈরি করতে চাইছে।

রাজধানী ওয়ারশতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে প্রায় এক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। স্লোগান আর প্ল্যাকার্ডে উঠে আসে ছয় বছরের অপেক্ষা আর হতাশার কথা। দেশজুড়ে একই দিনে আরও বহু শহরে একই দাবিতে সমাবেশ হয়।

ওয়ারশর আবোটাক গর্ভপাত কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ৩৬ বছর বয়সী এমিলিয়া নিয়েমিয়েৎস বলেন, গত ছয় বছরে আসলে তেমন কিছুই বদলায়নি। এই কেন্দ্রটি নারীদের ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সম্পদের সন্ধান দেয় এবং সহায়তা নেওয়া বা ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাতের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে কাজ করে।

পোল্যান্ডে কড়া গর্ভপাত আইন কার্যকর রয়েছে ১৯৯৩ সাল থেকে, আর তখন থেকেই পোলিশ নারীরা গর্ভপাত বৈধ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। ২০১৬ সালে দেশজুড়ে বড় বিক্ষোভ হয়, যেখানে নারীরা প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে কালো পোশাক পরে রাস্তায় নামেন।

কিন্তু আইন শিথিল হওয়ার বদলে ২০২০ সালে তা আরও কঠোর হয়। তখনকার জাতীয়-রক্ষণশীল ল অ্যান্ড জাস্টিস (পিআইএস) সরকারের সময়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত ভ্রূণের গর্ভপাতও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সেই রায়ের বার্ষিকীতেই এবারের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

আইনের কড়াকড়ি সত্ত্বেও পোল্যান্ডে গর্ভপাত থেমে নেই। বেশির ভাগ গর্ভপাতই হয় ঘরে বসে, দেশের বাইরে থেকে সংগ্রহ করা ওষুধ খেয়ে। পোলিশ আইনে গর্ভপাত করানো নারী নিজে ফৌজদারি দায়ে পড়েন না, তবে যাঁরা তাঁকে সাহায্য করেন — চিকিৎসক বা পরিবারের সদস্যসহ — তাঁদের বিচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পোলিশ হাসপাতালগুলোতে ৫৭৩টি গর্ভপাত হয়েছে, যেখানে টাস্ক ক্ষমতায় আসার আগে ২০২২ সালের পুরো বছরে হয়েছিল ৪৫২টি। তবে অধিকারকর্মীদের দাবি, হাসপাতালের বাইরে প্রতিবছর আরও কয়েক হাজার গর্ভপাত ঘটে, যা কোনো হিসাবে আসে না।

বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভের আয়োজক প্রচারকদের অভিযোগ, টাস্ক সরকার পোলিশ নারীদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। মার্চিনেকের ভাষ্য, সরকারের প্রতিশ্রুতি এক ধরনের বিভ্রান্তি হিসেবে কাজ করে — গর্ভবতী নারীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে শোনেন সব ঠিক আছে, গর্ভপাতের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে; তারপর হাসপাতালে গিয়ে দেখেন বাস্তবতা উল্টো। তখন তাঁরা সহায়তার জন্য আসেন এমন সময়ে, যখন সাহায্য করা অনেক দেরি হয়ে গেছে, জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে পোল্যান্ডে গর্ভপাতের প্রশ্নটি এখন আইন, রাজনীতি আর নির্বাচনী হিসাবের কেন্দ্রে। পার্লামেন্টে পাস হওয়া বিল দুটির ভাগ্য নির্ভর করছে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর, আর রাজপথের বিক্ষোভ বলছে, প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে নারীদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

ইউরোপ বিভাগের আরও খবর

ইউরোপ

পার্লামেন্ট পাস করা গর্ভপাত বিলে প্রিন্সের প্রথম ভেটো, হতাশ লিখটেনস্টাইনের অধিকারকর্মীরা

ইউরোপের ছোট্ট দেশ লিখটেনস্টাইনের যুবরাজ আলোইস তাঁর শাসনামলে প্রথমবারের মতো ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে পার্লামেন্টে পাস হওয়া একটি গর্ভপাত আইন সংস্কার বিল…

ইউরোপ

এবারের গ্রীষ্ম ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী: তাপে মৃত্যু ৫০ হাজারের বেশি, দুই-তৃতীয়াংশের দায় জলবায়ু পরিবর্তনের

এবারের গ্রীষ্মে চরম তাপে ইউরোপে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। দুটি নতুন গবেষণায় …

ইউরোপ

সার্বিয়ায় দুই বছরের রাস্তার আন্দোলন এবার ভোটের লড়াইয়ে: জরিপে এগিয়ে শিক্ষার্থীদের তালিকা

সার্বিয়ায় টানা দুই বছর ধরে রাস্তায় প্রতিবাদ করে আসা শিক্ষার্থীরা এবার সরকার গঠনের দাবি নিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছে। রোববারের সংসদ নির্বাচনের আগে প্র…

ইউরোপ

নজরদারি আর স্থায়ী শঙ্কার মধ্যে মস্কোতে পশ্চিমা কূটনীতিকদের দিনযাপন

‘রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হওয়া সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল,’—২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা লি…