…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

একা ইসরায়েল ইরানে আসলে কতটা করতে পারবে? সরকার উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্লেষকদের গভীর সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান ইতিমধ্যে দুই দফা হামলা মোকাবিলা করে টিকে আছে। দেশটির এখনো পাল্টা হামলার সক্ষমতা রয়েছে — শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতেও হামলা চালাতে সক্ষম ইরান, আর সেসব দেশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। এই বাস্তবতার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, একা ইসরায়েল ইরানে আসলে কতটা করতে পারবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সরকারকে উৎখাত করাই তাঁর দেশের 'প্রধান লক্ষ্য'। আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন; এর আগে জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন কমতে দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ইরানে আবার হামলা চালানোর আভাস দিয়ে এ কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে। কিন্তু সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে ইরানের সরকার উৎখাত করা যাবে, সে বিষয়ে দেশটির সুস্পষ্ট কোনো কৌশল নেই। শুধু বিমান হামলা চালিয়ে এ লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা কম; অন্যদিকে স্থল অভিযান চালাতে গেলে অনেক বড় সামরিক প্রস্তুতি ও শক্তির প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে বিশেষ করে পাহাড়ের নিচে থাকা ইরানের অস্ত্রঘাঁটিতে হামলা চালানো কঠিন। এ ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে মার্কিন বাহিনীর যে সক্ষমতা রয়েছে, তা ইসরায়েলের নেই।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর আলোচনা হয়। এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করেন। এরপরই নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতের কথা বলেন। তবে ইরানে নতুন করে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিতে রাজি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি; ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করার অভিযানে ওয়াশিংটন যোগ দেবে কি না, তা-ও স্পষ্ট করেননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন রয়েছে, কারণ ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে ইরানের সরকারকে বাধ্য করার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পথ এখনো খুঁজে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েলের আছে — এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহাম আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুত রয়েছে, আকাশে যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির। এসব কারণে ইসরায়েল বড় ধরনের সুবিধাজনক অবস্থানে আছে; দেশটি আবারও আকাশে আধিপত্য বিস্তার করে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে।

তবে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার সক্ষমতা থাকলেও ইসরায়েল ইরানের সরকার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই নেতানিয়াহু ইরানের নেতৃত্বকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ওই বছরের জুলাইয়ে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, 'এসব শাসনব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ইরানের শাসনব্যবস্থা। সেখানে নিষ্ঠুর স্বৈরশাসনের সঙ্গে উগ্র জঙ্গিবাদের মেলবন্ধন ঘটেছে।'

এর প্রায় ৩০ বছর পর ২০২৫ সালের জুনে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে হামলা চালায় ইরানে। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছিলেন, তা বাস্তবে রূপ নেয়। কিন্তু সেই যুদ্ধ ও ইরানের ওপর দফায় দফায় নানা অবরোধও দেশটির সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি।

গত মার্চে নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সরকার উৎখাত করা সম্ভব নয়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, 'শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। এ জন্য স্থল অভিযান প্রয়োজন।' তবে সেই স্থল অভিযান কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

তুরস্কের কায়সেরি শহরের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচ বলেন, বোমা হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা সম্ভব, কিন্তু তাতে দেশটির পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, 'বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা কমানো যায়, কিন্তু আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায় না। ভালোভাবে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রব্যবস্থাগুলো টিকে যাবে।' তাঁর মতে, ইরানের সরকার উৎখাত করতে হলে সেখানে সেনা মোতায়েন করতে হবে, শুধু তা-ই নয়, কয়েক বছর ধরে দেশটিতে সেনা রাখার প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

গোয়েন্দা কৌশল নিয়েও সতর্ক করেছেন কনিংহাম। আগের হামলাগুলোতে ইসরায়েল যেসব গোপন কৌশল ব্যবহার করেছে, সেগুলো আবারও একইভাবে কার্যকর হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহৃত উপায় ও নেটওয়ার্ককে তিনি 'একবার ব্যবহার করেই হারানোর ঝুঁকিতে থাকা সম্পদ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন — এসব কৌশল ব্যবহারের ফলে গোপন নেটওয়ার্কের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, তখন ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করবে। তাঁর মূল্যায়ন, গোপন অভিযান ও সাইবার হামলার মাধ্যমে ইরানের সরকার উৎখাতের কোনো সুস্পষ্ট পথ নেই। ইরানে স্থলযুদ্ধে কুর্দি বা বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও তাঁর সংশয় রয়েছে; গত মার্চে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে, তবে শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ আর এগোয়নি। কনিংহামের ভাষ্য, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সামরিক সক্ষমতা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েলকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে — এ জন্য ইরানের যে ইসরায়েলের সমানসংখ্যক যুদ্ধবিমান থাকতে হবে, এমন নয়। রুসির জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানের হাতে সম্ভবত এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে দেশটির লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও নির্ধারণের ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে। কৌশল বলেন, 'ইরানের হাতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সম্ভবত এখনো অনেক বেশি, কারণ এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি তুলনামূলক সহজ। পুরোনো চীনা জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশই এখন ইরান নিজ দেশে তৈরি করে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়গুলো বিমান হামলা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার প্রাকৃতিক আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।'

ইসরায়েলের জন্য নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘ সময় সচল রাখাও কঠিন হবে বলে মনে করেন কনিংহাম, কারণ আগের সংঘাতগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেক কমে গেছে। বারবার হামলা হলে আর্থিক চাপও বাড়বে — ইরানের তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে অনেক বেশি দামি প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে, আর দীর্ঘ সময় ধরে হামলা-পাল্টা হামলা চললে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ আরও বাড়বে। অন্যদিকে ইরান অনেক বেশি সময় ধরে কম খরচে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের তাতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হিসেবে তাঁরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থের পার্থক্যের কথা বলছেন — যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত থাকার চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলার জন্য ইসরায়েল ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের বার্তা স্পষ্ট: ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা ইসরায়েলের আছে, কিন্তু সেই ক্ষমতা দিয়ে তেহরানের সরকার বদলে ফেলার বিশ্বাসযোগ্য পথ এখনো কারও হাতে নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত, ধসে গেছে তিন শতাধিক বাড়ি

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।…

আন্তর্জাতিক

রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর প্রশ্ন: কোথা থেকে আসছে এই অস্ত্রভান্ডার, কেন ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব

শনিবার বেলা তিনটা পেরিয়ে গেছে। সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনালে তখন দারুণ ব্যস্ততা; অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের এই টার্মি…

আন্তর্জাতিক

মরুভূমির বিস্ময় জেনির গ্রেট মসজিদ: কাদা-মাটির তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ টিকে আছে পুরো শহরের ভালোবাসায়

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বানি নদীর অববাহিকায় জেগে থাকা প্রাচীন শহর জেনিতে দাঁড়িয়ে আছে এক স্থাপত্য-বিস্ময়। এটি গ্রেট মসজিদ অব জেনি — বিশ্বের সর্বব…

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের আগে বেলগ্রেডে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেড় লাখ মানুষের মহাসমাবেশ, চাপে ভুচিচের দল

সার্বিয়ায় রোববারের গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার রাজধানী বেলগ্রেডের কেন্দ্রে বিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে প্রায় দেড় লাখ মানু…