রামপুরায় হিফজ সম্পন্নকারী ছাত্রীদের জমকালো সংবর্ধনা, দেওয়া হলো ক্রেস্ট ও উপহার
রাজধানীর রামপুরায় হিফজ সম্পন্নকারী একদল ছাত্রীকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্টসহ বোরকা, হিজাব ও নানা উপহারসামগ্রী। দীর্ঘ অধ্যবসায়ে পুরো কোরআন মুখস্থ শেষ করার স্বীকৃতি হিসেবেই এই আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর আল জান্নাহ মিলনায়তনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছাত্রীদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মিলনায়তনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মাসউদুল কাদির। প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন জামিয়া কাসেম নানুতবী ঢাকার শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যাইনুল আবিদীন বলেন, কন্যাসন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত। যেসব অভিভাবক মেয়েদের সঠিক পরিচর্যা করে বড় করছেন, তাঁরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যাঁদের সন্তান হাফেজা হয়েছেন, তাঁরা আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত মর্যাদাবান। দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতেই আল্লাহ তাঁদের সম্মানিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে শুধু হাফেজা বানিয়ে থেমে থাকলে চলবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধান অতিথি। তাঁর ভাষায়, মেয়েদের আল-কোরআনের তরজমা ও তাফসিরও শেখাতে হবে, যাতে মুখস্থ করা আয়াতের অর্থ ও মর্ম তারা নিজেরা বুঝতে পারে এবং জীবনে প্রয়োগ করতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইলের প্রধান বার্তা সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, সন্তানেরা যেন আগামী দিনে আলোকিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য সবার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাতে হবে।
বাইতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নাল আবেদিন বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনে একজন আদর্শ মায়ের ভূমিকা কতটা জরুরি, তা চারপাশের পরিবেশের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। আজকের এই ছাত্রীরাই আগামী দিনের মা—তাই তাদের শিক্ষা পুরো সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাওলানা তাওহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা আমিন আশরাফসহ অন্য অতিথিরা। বক্তারা হিফজ শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষায় এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ছাত্রীদের হাতে একে একে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের পরিবেশ তৈরি হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষায় উৎসাহিত করতেই এমন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হিফজ সম্পন্নকারী ছাত্রীদের এভাবে সম্মাননা জানানোর ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়।




