প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, ২০২৮ সালে বসবে ১৯ দলের আসর
যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি বড় ফুটবল আসরের আয়োজকের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা নারী ক্লাব বিশ্বকাপের স্বত্ব পেয়েছে দেশটি, আর এই মেগা ইভেন্ট বসবে ২০২৮ সালে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, যার মধ্য দিয়ে নারী ক্লাব ফুটবলের নতুন একটি বৈশ্বিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
ফিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ১৯টি নারী ক্লাব নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। শীতের এই সময়সূচি নিয়ে ইতোমধ্যে ফুটবলমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ ইউরোপের অনেক লিগের মাঝামাঝি সময়ে এই আসর বসতে যাচ্ছে।
কোন কোন শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি ফিফা। আয়োজক শহর, স্টেডিয়াম ও ম্যাচসূচির বিস্তারিত পরে ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অভিজ্ঞতা থাকায় সেই ঘোষণার দিকে নজর থাকবে সবার।
এই প্রথম আসর শেষ হওয়ার পর থেকে প্রতি চার বছর পরপর নারী ক্লাব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ এককালীন আয়োজন নয়, বরং পুরুষদের ক্লাব বিশ্বকাপের মতোই নিয়মিত একটি ক্যালেন্ডার ইভেন্ট হিসেবে এটিকে গড়ে তুলতে চায় ফিফা। এতে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের সেরা নারী ক্লাবগুলো এক মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে।
ইতোমধ্যে সাতটি দল ফিফার প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে ইংল্যান্ডের আর্সেনাল ও স্পেনের বার্সেলোনা — ইউরোপীয় নারী ফুটবলের দুই পরাশক্তি। তাদের উপস্থিতি প্রথম আসরের আকর্ষণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিশ্চিত হওয়া বাকি দলগুলো হলো মেক্সিকোর আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের গোথাম এফসি, ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্স, চীনের উহান জিয়াংদা এবং উত্তর কোরিয়ার নেগোহ্যাং এফসি। মহাদেশভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের এই ছবি থেকেই বোঝা যায়, ফিফা আসরটিকে সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক রূপ দিতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার পেছনের যুক্তিও ব্যাখ্যা করেছে ফিফা। এর আগে সংস্থাটির সম্প্রসারিত ফরম্যাটে হওয়া সর্বশেষ পুরুষ ক্লাব বিশ্বকাপও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপও দেশটি আয়োজন করেছে — যদিও সেই আসরে সহ-আয়োজক হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকোও ছিল এবং আয়োজন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল।
ফিফার নারী ফুটবলবিষয়ক প্রধান সারাই বারেম্যান বলেছেন, ফিফার শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চমৎকার সক্ষমতা, সেখানে নারী ফুটবলের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ এবং উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো — সব মিলিয়ে দেশটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাঁর এই মন্তব্যে আয়োজক বাছাইয়ের তিনটি মানদণ্ডই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নারী ফুটবলের বাণিজ্যিক ও দর্শক-আগ্রহের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বড় বাজার। সেখানে নারী ফুটবলের প্রতি ব্যাপক আগ্রহের কথা ফিফা নিজেই উল্লেখ করেছে। ঘরের মাঠে গোথাম এফসির মতো দলের অংশগ্রহণ স্থানীয় দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারি এখন নারী ক্লাব ফুটবলের ক্যালেন্ডারে বড় একটি তারিখ। আয়োজক শহর ও বাকি দলগুলোর নাম চূড়ান্ত হলে আসরের পূর্ণ ছবি পাওয়া যাবে। প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপ কতটা সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে চার বছর পরপরের এই নতুন ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ গতি।




